প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ আনন্দের দিন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বঞ্চিত গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে পেরেছি।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীন পরিবারকে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কথাই ভাবতেন। আমাদের পরিবারের লোকদের চেয়ে তিনি গরীব অসহায় মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবতেন এবং কাজ করেছেন। এই গৃহ প্রদান কার্যক্রম তারই শুরু করা।

দেশের ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় লাইভে যুক্ত ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা। এছাড়াও দেশের সব উপজেলা অনলাইনে যুক্ত হয়।

আশ্রায়ণ-২ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একক গৃহ নির্মাণের সামগ্রিক কার্যক্রম সমন্বয় করেছে। মুজিববর্ষে ২১ জেলার ৩৬ উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্প গ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬৯ হাজার ৯০৪ জন ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়ার ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম।

তিন প্রকল্পে এক হাজার ১৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবারকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে সরকার। যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পে ৪১৯ কোটি ৬০ লাখ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ কর্মসূচির ৬৫৯ কোটি ৮২ লাখ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের ৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়াও অতিরিক্ত পরিবহন বাবদ ২৬ কোটি ৪৮ লাখ ও জ্বালানি বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এসব পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৪ হাজার ৫৩৮টি পরিবারকে একক গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ কর্মসূচির মাধ্যমে দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮ হাজার ৫৮৬টি পরিবারকে একক গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের মাধ্যমে দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে দুই লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন হাজার ৬৫টি পরিবারকে একক গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।