হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে পুলিশ ও হেফাজতে ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি।

সোমবার (২৯ মার্চ) সকালে আজমিরীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত তালুকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত চার শতাধিক হেফাজত সমর্থকদের আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল ইসলাম।

তিনি জানান, পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে পুলিশকে মারপিট করা হয়েছে। এসময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাংচুর ও দু’টি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। এছাড়া কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন মামলায় হয়রানি না হয় সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল চলাকালে রোববার (২৮ মার্চ) বেলা ১২টায় হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের নোয়াগড় এলাকায় হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন তারা। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি নুরুল ইসলামসহ আরও পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ সময় হেফাজতের কর্মীরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেন। একসময় হেফাজতের সমর্থকরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে আবারও পুলিশের ওপর হামলা চালান। পুলিশ তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৩টি রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে হেফাজতের কর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হন।