হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কামাল মিয়া (৩৬) নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ৬৭ জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞাত আরও ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন নিহত কামাল মিয়ার বাবা ইয়াকুব মিয়া।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন আসামী পক্ষের লোকজন। এ সুযোগে পুরুষশুণ্য বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায় বাদি পক্ষের লোকজন।

জানা যায়, গ্রামীন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামবাসী দুই গ্রæপে বিভক্ত হয়ে যায়। এক গ্রæপের নেতৃত্ব দেন ইয়াকুব মিয়া ও অপর গ্রæপের শেরআলী। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই গ্রæপের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমাও রয়েছে।

সোমবার (১০ মে) বিকেলে খলায় ধান শুকানোকে কেন্দ্র করে ইয়াকুব মিয়া ও শেরআলীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি সমাধান করে দেন।

মঙ্গলবার (১১ মে) সকালে আবারও দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। এতে ঘটনাস্থলেই কামাল মিয়া মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত আরও ২০ জন। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৩৫ জনকে আটক করে। বুধবার (১২ মে) সকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

এদিকে, আমাসী পক্ষের ৩৫ জন পুরুষ কারাগারে এবং বাঁকিরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এ সুযোগে তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বাদি পক্ষের লোকজন। এ সময় তারা আসামী পক্ষের অন্তত ৫০টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। বাড়ি থেকে গরু-ছাগল, ধান-চালসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত ৩৫ জনের মধ্যে ৩২ জনই এজাহার নামীয় আসামী। তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাংচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু তাদের একজন খুন হয়েছে একটু ভাংচুর হতে পারে। তবে আর যেন কোন অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’