আজমিরীগঞ্জে লকডাউন নিশ্চিতে প্রশাসনের অভিযানে স্বাস্ব্যবিধি না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রেজাউল করিম নামে এক চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট শোয়েব শাত-ঈল-ইভান।

সেই জরিমানাকে নিয়মবহির্ভুত ও তার প্রতি অবিচার দাবি করে ডা. রেজাউল করিম আপিল করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান জরিমানার ২০ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন।

সোমবার আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা চিকিৎসকের বাড়িতে গিয়ে এ টাকা ফেরত দিয়ে আসেন।

বিষয়টি নিশ্চত করেছেন ডা. রেজাউল করিম।

জানা যায়, সারাদেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সারাদেশে কঠোর লকডাউন নিশ্চিতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুলাই (শুক্রবার) হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের কাকাইলছেও ইউনিয়ন বাজারে চিকিৎসক রেজাউল করিমের মালিকানাধীন ‘পপুলার ফিজিওথেরাপী’ নামে প্রতিষ্ঠানে রোগীদের ভীড় দেখতে পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট শোয়েব শাত-ঈল ইভান চিকিৎসক রেজাউল করিমকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য সতর্ক করেন। পরদিন ৩ জুলাই শনিবার আবারো কাকাইলছেও ইউনিয়ন বাজারে পপুলার ফিজিওথেরাপি সোন্টারে গিয়ে রোগীদের ভীড় দেখতে পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৫ (২) ধারা অমান্য করায় পপুলার ফিজিওথেরাপি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী চিকিৎসক রেজাউল করিমকে নগদ ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ম্যাজিস্ট্রেট শোয়েব শাত-ঈল ইভান।

সংবাদটি সোমবার (৫ জুলাই) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে একইদিন সকালে চিকিৎসক রেজাউল করিমকে জরিমানার টাকা ফেরত দেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

জরিমানার বিষয়ে চিকিৎসক রেজাউল করিম জানান, করোনা সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলাম। চেম্বারে রোগীরা মাস্ক পরা অবস্থায় ছিলেন। এরপরও জরিমানা করায় আমি মর্মাহত হয়েছি। তবে আজ সোমবার সকালে জরিমানার অর্থ ফেরত দিয়েছেন প্রশাসনের এক উর্ধতন কর্মকর্তা।

এবিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মতিউর রহমান খাঁন বলেন, দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চিকিৎসক আপিল করেছিলেন। তিনি একজন করোনাযোদ্ধাও। এই দুইটি বিষয় বিবেচনায় তার জরিমানা মওকুফ করা হয়েছে তাক ২০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

এবিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট শোয়েব শাত-ঈল ইভানের ব্যাবহৃত মুটোফোনে দু’বার যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে লাইন কেটে দেন।