হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা। বর্ষা মৌসুমে উপজেলাটি পানিতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার চারপাশে পানি থৈই থৈই করে। বেশি দূর নয়, মাত্র ৮/৯ বছর আগে শুকনো মৌসুমেও জেলা শহরের সাথে এই উপজেলার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ছিল নৌকা। অথচ পানিতে ভেসে থাকা এই পৌরসভায়ই এখন পানির সংঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশুদ্ধ পানিতো বটেই, নদী-বিলের পানিও মিলছে না ধারে-কাছে।

৫ বছর ধরে ডিসেম্বরের শেষের দিকে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংঙ্কট দেখা দেয়। পানির এই হাহাকার চলে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি পানির সংকট অন্য বছরের চেয়ে এবার অধিক বেশি। খাবার পানির পাশাপাশি নদী-খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় শৌচাগারের জন্যও পানির ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

সরজমিনে পৌরসভার ৪, ৫, ৬ ও ৭ নং-সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নলকুপগুলো দিয়ে পানি একেবারেই উঠছে না। নিত্য-ব্যবহার্য্য পানির জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে পানি নিচ্ছেন। অনেক পরিবার আবার সেই পুকুরের পানি থেকেও বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন বেকায়দায়। যে নলকুপগুলোতে অল্প পানি উঠছে সেই নলকুপগুলোতেও মানুষের দীর্ঘ লাইন। ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেজুয়ান মিয়া ও সাগর মিয়া জানান, ওয়ার্ডের প্রায় সব বাড়ির নলকুপে পানি না উঠায় অকেজো হয়ে পড়েছে। দুয়েকটি নলকুপে যা পানি আসছে সবাই খাবার পানির জন্য এসব বাড়িতে ভীড় করছেন। বাকি নিত্য প্রযোজনীয় ব্যবহার্য পানির জন্য একমাত্র ভরসা মসজিদের পুকুরটি। পুরুষ ও বাচ্চাদের গোসলসহ যাবতীয় কাজ মসজিদের পুকুরে সারলেও বাড়ির নারীদের জন্য রাতের বেলা প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি ভর্তি করে নিতে হচ্ছে পুকুরের পানি। এমনকি শৌচাগারের পানিও নিতে হয় এই পুকুর থেকে।

একই ওয়ার্ডের শাহেদ আলী মিয়া বলেন, আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার চারপাশে অনেক নদী-খাল-বিল ছিল। কিন্তু সেগুলো এখন শুকিয়ে গেছে। কোথাও পানি নেই। একদিকে খাবার পানির সংঙ্কট, অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্যও পানির সংঙ্কট।

৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা টিটু মিয়া ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন জানান, নিত্য ব্যবহার্য কাজ পার্শ্ববর্তী মসজিদের পুকুরে সারলেও খাবার পানির জন্য যেতে হচ্ছে আধা কিলোমিটার দুরে। অথচ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পেড়িয়ে গেলেও নির্মিত হয়নি কোনো ওয়াটার সাপ্লাই ব্যবস্থা। অথচ এ সমস্যা একবছর নতুন না। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই চৈত্র-বৈশাখ মাসে পানির সংকটের পড়তে হয় আমাদের।

আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায় কোন নির্বাচিত মেয়র নেই। পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মতিউর রহমান খাঁন। তিনি বলেন, আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার পানির সমস্যা সমাধানে ওয়াটার প্লান্ট নির্মাণে আমরা একটি প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হবে।