বর্তমানে ইউপি সদস্য থাকার সুবাদে স্থানীয়ভাবে ক্ষমতার দাফট দেখিয়ে ভূয়া কাগজ তৈরি করে দলিল সম্পাদন ও প্রতারণা করে বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে এলাকায় গুঞ্জণ ছিল ইউপি সদস্য হাসান আলী ওরফে উস্তার মিয়ার বিরুদ্ধে।

পাওনা টাকা না দেয়ায় এবং প্রতারণার দায়ে নবীগঞ্জ থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ডিবি পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ২৭ দিন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে দিনপাত করছেন তারা। কিন্তু স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে শালিস বৈঠকে টাকা ফেরত দেওয়ার রায়ও তিনি বলবৎ করেননি। গ্রেফতার হওয়ার পরও আদালতে পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন কুট কৌশল করেন এবং অপারগতায় জামিন হচ্ছে না প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারকৃত ইউপি সদস্য হাসান আলী ওরফে উস্তার মিয়া ও তার ভাতিজা শাহিনের।

গত বুধবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জামিন চাইলে উস্তার মিয়া টাকা দিতে অপারগতা জানালে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছে। উক্ত প্রতারণা মামলায় অপর আসামী গ্রেফতারকৃত ইউপি সদস্য উস্তার মিয়ার ভাই প্রতারক মোশাহিদ মিয়া দীর্ঘদিন যাবত পলাতক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারস্থ বকুল মিষ্টি ঘরের সত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী রোমন মিয়ার নিকট থেকে জায়গা বিক্রির কথা বলে উল্লেখিত আসামীরা ৭ লাখ নেয়। কিন্ত জায়গা বুঝিয়ে না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। বিগত ২০১৪ সালে টাকা নিলেও ৭ বছর ধরে জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেনা এবং টাকাও ফেরত দিচ্ছেনা তারা। এক পর্যায়ে উল্টো ব্যবসায়ী রোমন ও তার পরিবারকে হুমকি ও ভয়ভীতি দিয়ে যাচ্ছিল। এনিয়ে স্থানীয় আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন ও আউশকান্দি বাজার এলাকার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খালেদ আহমদ জজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে শালিস বিচারের টাকা ফেরত দেয়ার রায় হলেও আসামীপক্ষ কোন কর্ণপাত করেনি। পরে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ী রোমান মিয়া আইনের আশ্রয় নিয়ে গত ৮ মার্চ নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে গত ১৬ মার্চ আউশকান্দি বাজারে অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্য উস্তার ও তার ভাতিজা শাহিনকে গ্রেফতার করে হবিগঞ্জের ডিবি পুলিশ।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ-শেরপুর রোডস্থ ডেবনার ব্রীজ সংলগ্ন এরাবরাক নদীর সরকারের খাস জমি দখল করে দোকানঘর নির্মানের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় তারা বহাল তবিয়তে রয়েছে। এছাড়া ইউপি সদস্য উস্তার মিয়া তার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দক্ষিন দৌলতপুর গ্রামে বিদ্যুৎ দেয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রামবাসীকে সংযোগ দিলেও অবৈধভাবে উৎকোচ এর টাকা ফেরত দেননি। এনিয়ে ভুক্তভোগীরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এছাড়াও এলাকায় তাদের বিরুদ্বে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখিত আসামী ইউপি সদস্যের বিরুদ্বে সরকারী খাস ভূমি দখল মুক্ত করে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।