করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ‍ও মৃত্যু আগের চেয়ে কমে এলেও সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে আরও অপেক্ষা করতে চায়।

করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল কলেজ।

এর আগের ঘোষণায় ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার এক দিন আগে শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে সাত দফা বাড়ানো হলো ছুটি।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর পর ধাপে ধাপে আরও সাত দফা বাড়ানো হলো ছুটি।

২৯ অক্টোবর চতুর্থ দফা যখন ছুটির দেয়ার বাড়ানো হয়, তখন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৪ নভেম্বরের পর সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হতে পারে। তবে শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে সতর্ক করে আসা সরকার আর ঝুঁকি নেয়নি।

তবে শীতের শুরুতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও দ্বিতীয় ঢেউ আসার প্রমাণ মেলেনি। আর গত দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবেই সংক্রমণ কমার তথ্য জানা যাচ্ছে।

১৪ জানুয়ারি সকাল থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের, যা ২৪৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। সংক্রমণের হার ১৪ জানুয়ারি ছিল পরীক্ষার ৪.৯০ শতাংশ। এটিও আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

করোনার টিকাও আসছে চলতি মাসের শেষের দিকে। আগামী মাসের শুরু থেকে ৫০ লাখ মানুষকে টিকা প্রয়োগ করা হবে প্রথম ধাপে। তবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে না। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচের কাউকে টিকা দেয়া হবে না।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ অবশ্য মনে করে, স্কুল খুলে দেয়ার সময় এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সংক্রমণের হার বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় ক্লাস চলছে অনলাইনে ও টেলিভিশনের মাধ্যমে। তবে ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশই শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে।

৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারায় তারা ক্লাস করতে পারেনি বলে বিশ্বব্যাংক ও ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে।

স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও কওমি মাদ্রাসা চালু আছে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। যদিও এখনও বিশ্ববিদ্যালগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি।