দিনরাত ডেস্ক : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই– ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনই সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও ফ্রি এবং ফেয়ার হবে। এই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ইলেকশন হবে।’

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্বচ্ছ নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন দল অংশ নিচ্ছে, আমাদের প্রতিপক্ষ বিএনপিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে আমরা তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এই নির্বাচন ফেয়ার হবে, সুষ্ঠু হবে, এক্সেপ্টেবল হবে। ক্রেডিবল একটি নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করতে চান।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, “যেই জয় পাক, কিছু আসে যায় না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হেরে গেলে সরকারের উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়বে না। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই। নির্বাচন কমিশন ইভিএম পদ্ধতিতে এই নির্বাচন করছে। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ করার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাব।”

“কারণ নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক, প্রতিযোগিতামূলক হোক। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই এই নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হবে, সুষ্ঠু হবে। একসেপটেবল, ক্রেডিবল একটি নির্বাচন হবে। এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করতে চান।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সম্পর্কের দেয়াল উঁচু না করে সেতুবন্ধন তৈরি করার পরামর্শও দেন ওবায়দুল কাদের।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতিমণ্ডলীর প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেছেন, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে।

এরও আগে ২১ ডিসেম্বর দলটির ২১তম জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

“রাজনৈতিক জীবনে, সামাজিক জীবনে এবং পারিবারিক জীবনে আরও অনেক সেতু দরকার। আমাদের ওয়াল হচ্ছে, ব্রিজ তৈরি হচ্ছে না। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করব, আসুন পোলারাইজড ডিভাইসিং পলিটিক্স থেকে ফিরে আসি। আর ওয়াল নয়, আমাদের সেতু নির্মাণ করা দরকার। সম্পর্কের সেতুগুলোতে ফাটল ধরে গেছে, এই চির ধরা সেতুগুলোকে সঠিকভাবে নির্মাণ করা দরকার।

“আমি বলছি সম্পর্কের সেতু। আমাদের রাজনীতিকরা বেপরোয়া চালক হয়ে গেছে, আমাদের কথাবার্তাও বেপরোয়া চালকের মত হয়ে গেছে। আমাদের অনেকের মুখে মুখে ফরমালিনের মত বিষ। এই অবস্থা থাকলে ওয়ালই উঠবে, ওয়াল আরও উঁচুতে উঠবে, সম্পর্কের সেতু নির্মাণ হবে না। কাজেই আমাদের এই জায়গা থেকে বের হয়ে সম্পর্কের সেতু নির্মাণ করতে হবে।

এর আগে ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন। অসুস্থতার পর জীবন পেয়ে তিনি এখন জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস খেলছেন বলে মন্তব্য করেন। সুচিকিৎসার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।