কাজল সরকার, সম্পাদক, দিনরাত নিউজ : আহত বাঘ, কিন্তু সত্যি হিংস্র হয়ে উঠেছিল বিকট গর্জন দিয়ে। তাইতো ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে বধ করতে তেমন কষ্ট করতে হয়নি। বীর দর্পেই কঠিন থাবা দিয়েচিল টাইগারবাহীনি। অনেকেই ভাবছেন কেন বলছি আহত ভাগ। ক্রিকেটাঙ্গণে অসন্তোষ, দলের সেরা তারকা সাকিব আর ওপেনার তামিম ইকবালবিহীন যুদ্ধ, সেই সাথে দিল্লির বিষাক্ত বাতাস। সব কিছুই ছিল টিম বাংলাদেশের জন্য বিরাট ধাক্কা। সবাই ভেবেছেন এই ম্যাচ হয়তো বাংলাদেশের জন্য সু-খবর বয়ে আনবে না। কিন্তু সবার ধারণা পাল্টে দিয়ে সারা দুনিয়াকে দেখিয়ে দিল টিম টাইগার।

সব মিলিয়ে চরম প্রতিকূলতার মাঝেই ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে ভারত সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। আর সেখানেই যেন নিজেদের সব রাগ ভারতীয় ক্রিকেট দলের উপরেই ঝারলো ক্ষত-বিক্ষত টাইগার বাহিনী! ফলাফল, রোহিত বাহিনীকে পাতলা খড়কুটোর মত উড়িয়ে দিয়ে টাইগারদের ৭ উইকেটের বিশাল জয়।

সৌম্য সরকার, নবাগত নাইম আর অভিজ্ঞ মুশফিক-মাহমুদুল্লারা রোববার (৩ নভেম্বর) ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ের ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি ভারতীয় সমর্থকদের বুঝিয়ে দিল শ্বাস কষ্টের যন্ত্রণা কাকে বলে ! বলতে গেলে প্রচন্ড ঝালের মধ্যে গরম খাবার।

এই ম্যাচ থেকে আগামীর দিকে থাকালে সবাই টাইগার সমর্থকরাতো বলবেই- দুঃস্বপ্নেরও শেষ আছে! অন্ধকার শেষে সময় এখন আলোর পথে হাটার। ভারতের সঙ্গে ম্যাচ মানেই ছিল টাইগারদের তীরে এসে তরী ডোবার গল্প! অবশ্য এই ম্যাচ একটা শিক্ষা দিয়ে যাবে- ‘যে শরীর যথই দুর্বল হোক, মনোবল ঠিক থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছা যাবেই।’

তাইতো ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সাকিব-তামিমহীন তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশ দলকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দিলো ভারত। মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা।

বাংলাদেশ ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রানে ব্যাট করছেন সৌম্য সরকার ও নাঈম। সৌম্য ১৩ বলে ১৬ রান করেন। নাঈম ২৩ বলে ২৫ রান করেন। রোমাঞ্চকর ছিল শেষ ২ ওভার। কারণ এই ১২টি বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২২ রান। তখনই খলিল আহমেদকে টানা চার মেরে দলকে নিয়ে যান স্মরণীয় জয়ের দ্বারপ্রান্তে। তারপর মাহমুদউল্লাহ ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে উৎসবে ভাসান গোটা বাংলাদেশকে।

৪৩ বলে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ ১৫! স্বপ্নের জয়ের দুই কারিগর!