দিনরাত নিউজ
রাজস্থান! আয়তনের নিরিখে ভারতের সর্ববৃহৎ রাজ্য।এই রাজ্যের নাম উচ্চরিত হলে প্রথমেই চোখে ভাসে কেল্লা, প্রাসাদ কিংবা দুর্গের বহু ছবি। মরুময় দিগন্তে রাজকীয় স্থাপনায় পরিপূর্ণ রাজস্থান উত্তর ভারতের সমৃদ্ধ জনপদ। পশ্চিমে গুজরাত ও পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ রাজস্থানকে কৌশলপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরিচিতি দিয়েছে। ভারতের মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের সঙ্গেও রাজস্থানের সীমান্ত রয়েছে।

শতদ্রু ও সিন্ধু নদীর অববাহিকায় অবস্থিত রাজস্থান ভারতের সুবৃহৎ থর মরুভূমির অংশ। তবে ঊষর ও উষ্ণ ভূমির রাজস্থানেই রয়েছে শৈল শহর মাউন্ট আবু, আধ্যাত্মিক শহর আজমির, প্রাচীন প্রত্নশহর বিকানার, জয়সলমীর, যোধপুর, উদয়পুর, কিষাণগড়, পুষ্কর। ভারতের সবচেয়ে বিলাসবহুল, অভিজাত ও মহার্ঘ টুরিস্ট ট্রেন মহারাজা এক্সপ্রেস, রয়েল চ্যারিয়ট, লাক্সারি অন দ্য হুইল চলাচল করে দিল্লি, আগ্রা, জয়পুর হয়ে সমগ্র রাজস্থানে।

এক সময়ে এই রাজ্য দেখেছে বহু রক্ষপাত, যুদ্ধ, জহর ব্রত পালন করে রানী মহারানীদের আগুনে ঝাঁপ। ইতিহাস আজও ফিসফিসিয়ে কথা বলে যায় রাজস্থান রাজ্যের আনাচে কানাচে। প্রত্ন ঐতিহ্য মায়াময় রহস্যময়তায় দোলা দেয় রাজস্থানে।

নৈসর্গিক রাজস্থান, ছবি: সংগৃহীত

যোদ্ধা রাজপুত জাতির বীরত্বপূর্ণ কাহিনী ভারতবর্ষের পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। মুঘল সম্রাটগণ রাজপুতদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে সাম্রাজ্যকে স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও প্রসারিত করেছিলেন। ফলে রাজাদের স্থান বা রাজস্থান নামের মাহাত্ম্য এ রাজ্যের সর্বত্র সুস্পষ্ট।

মুঘল সম্রাট আকবর রাজপুত রাজকন্যা যোধাবাঈকে বিয়ে করেছিলেন। যে দম্পতির সন্তান শাহজাদা সেলিম পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীর নামে মুঘল সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। সম্রাট আকবরের রাজপুত সেনাপতি রাজা মানসিংহ বারো ভূইয়াদের পরাজিত করে বাংলাকে মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।

মধ্যযুগের ভারতের প্রথম পরিকল্পিত নগর বলা হয় রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরকে। একজন বাঙালি স্থপতির নেতৃত্বে জয়পুর গড়ে উঠে সুসজ্জিত, নান্দনিক নগর, যে শহরকে বলা হয় ‘পিংক সিটি অব ইন্ডিয়া’।

ইতিহাসের সঙ্গে রাজস্থান ও জয়পুরের নানা জায়গা একাত্ম হয়েছে রহস্য ও লোককাহিনীর সম্ভারে । দুয়ের মেলবন্ধনে উঠে আসে নানা কাহিনী। কোনওটা রাজাপুতানা ইতিহাসের কোনওটা বা তার বাইরের। সেইসব নানা রহস্যময়তা ও গা ছমছম রাজসিক আভিজাত্যের জন্য রাজস্থান ও জয়পুর কোটি কোটি মানুষকে আকর্ষণ করে। ভারতের পর্যটনের সিংহভাগই রাজস্থানে আবর্তিত। বলিউডের অসংখ্য ছবির জমজমাট, রঙিন লোকেশানের জন্যও রাজস্থান, জয়পুর প্রসিদ্ধ।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আর রাজস্থান হাজার মাইল দূরে ঠিক বিপরীতে উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। তথাপি হাজার হাজার বাঙালি আজমির ভ্রমণে যাচ্ছেন সারা বছর জুড়েই। দিল্লি, আগ্রাতেও বাঙালির কমতি নেই। একটু পরিকল্পনা আর উদ্যোগ নিলে রাজস্থানের অপরূপ শহরগুলো আর বিচিত্র জনপদ ঘুরে আসা সম্ভব। বিশ্বায়নের মুক্ত পৃথিবীর যোগাযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই রাজস্থান ভ্রমণ সম্পন্ন করা যায়। সামনেই আসি-আসি শীতের নাতিশীতোষ্ণ পরিস্থিতিতে ভ্রমণে বের হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ অপেক্ষমাণ।