হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয়তাবাদি বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী এডভোকেট এনামুল হক সেলিম তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেছেন।

মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারে ১০ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হাসিম, যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব জি, কে গউছসহ বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

তার ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে- জলাবদ্ধতা, দূষণ মুক্ত পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন শহর, স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ত বাজেট, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ এবং মাদক মুক্ত শহর গড়া। তিনি নির্বাচিত হলে এগুলোর উপর গুরুত্ব দিবেন বলে উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে প্রথম কাজ। জলাবদ্ধতা দূর করতে আমরা ত্রিমাত্রিক কৌশলে কাজ করবো। স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে শক্তিশালী পাম্পের মাধ্যমে আবদ্ধ পানি খোয়াই নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করবো। যতদিন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান না হয় ততোদিন এই পাম্পের মাধ্যমে সেচ অব্যাহত থাকবে।’

পৌরসভার পরিবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পৌরসভায় দুষণের মাত্র প্রকট আকার ধারন করেছে। আমি নির্বাচিত হলে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা গড়ে তুলবো। বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানাবো আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য। পাশাপাশি ডিজিটাল প্লাটফর্শ ব্যাবহার করে বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থাপনায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে।’

পৌরসভা দুর্নীতি রুখতে এনামুল হক বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা আমার প্রধান অঙ্গিকার। পৌরসভার সকল কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করবো। বাৎসরিক ত্রৈমাসিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। প্রতিটি চলমান প্রকল্পের আয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ্যে ঘোষনা করা হবে। যে কোন নাগরিক এই বিষয়ে জানতে ও প্রয়োজনে মতামত জানাতে পারবেন।’

পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার ব্যপারে সেলিম বলেন, ‘স্থানীয় জনগণকে সড়কের বাতি তদারকির দায়ীত্ব দেয়া হবে। মাসে একদিন আমরা সকলের অংশ গ্রহণে স্বেচ্ছায় নিজের আশপাশ পরিষ্কার করার জন্য উদ্ধুদ্ধ করবো। প্রতিটি পাড়ায় ডাস্টবিন বসানো এবং তার ব্যবহান নিশ্চিত করা হবে।’

জনসম্পৃক্ত বাজেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরের বাজেটে সিটিজেন গ্রুপের মতামত নেয়া হবে। যুবসমাজকে আধুনিক ডিজিটাল টেকলোলেজিতে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্র তৈরি করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে তিনি বলেন, জন্ম নিবন্ধনসহ যেকোন আবেদন ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। তা নাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিমাসে মেয়র একটি লাইভের সেশন করবেন যেখানে যেকেউ পৌরসভা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন। আমি দুর্নীতি করবো না, কাউকে করতে দেবো না। এ আমার অঙ্গীকার।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সেলিম বলেন, ‘হবিগঞ্জ শহরে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আমি সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করবো। উৎসব আচার অনুষ্ঠানে একে অপরের সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।’

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতির কথার উল্লেখ করে বলেন, ‘ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনবো। প্রতি বছর নাট্য উৎসব আয়োজন করা হবে। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে যা যা করার প্রয়োজন তা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক আমাদের জাতীয় সমস্যা। এর থেকে মুক্তি পেতে পরিবার থেকে এলাকার প্রতিটি পর্যায়ে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে পারে। পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে হবিগঞ্জ শহর থেকে মাদক সমস্যা নির্মূলে সমন্বিত উদ্যেগ গ্রহণ করা হবে। তরুন প্রজন্মের ভিত্তিতে আধুনিক বিশ্বের সাথে সামনসস্যপূর্ণ হবেগঞ্জ পৌরসভা বিনির্মাণে সকল প্রজন্মের সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।