দিনরাত ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যাত্রীবাহী দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে চলেছিল রাজশাহীর আড়ানীতে।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে একই লাইনে উঠে যায় দু’টি যাত্রীবাহী ট্রেন। তবে চালকের দক্ষতায় মাত্র ৩০ ফুট দূরত্বে থাকতেই থেমে যায় ট্রেন দু’টি। এতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান দুই ট্রেনের প্রায় এক হাজার যাত্রী।

জানা যায়, উত্তরা এক্সপ্রেস রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে পার্বতীপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছিল। আর খুলনা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস রাজশাহী আসছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আড়ানী রেলস্টেশনের অদূরে উত্তরা এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের ক্রসিং হওয়ার কথা ছিল। রাজশাহী প্রান্তে আব্দুলপুর অভিমুখী উত্তরা এক্সপ্রেস ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। এসময় খুলনা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি একই লাইনের মধ্যে ঢুকে পড়ে। লাইনের ওপর ট্রেন দেখে তাৎক্ষণিক ব্রেক করেন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের লোকোমাস্টার (চালক)। ট্রেনটি মুখোমুখী একেবারে কাছাকাছি এসে পড়লেও শেষ পর্যন্ত থামিয়ে দিতে সক্ষম হন তিনি। এসময় দুই ট্রেনের দূরত্ব ছিল মাত্র ৩০ ফুট।

এ ঘটনার পরপরই দুই ট্রেনের যাত্রীরা নেমে আসেন। চারদিকে রীতিমতো হৈ চৈ পড়ে যায়। অল্পের জন্য ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় যাত্রীবাহী দু’টি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন বলে জানান আতঙ্কিত যাত্রীরা।

এদিকে, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী আড়ানী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার একরামুল হক ও পয়েন্টম্যান (পি.ম্যান) রওশন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের (পাকশী) বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্টেশনমাস্টার ও পয়েন্টম্যানের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছিল। আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে এই দু’টি ট্রেনের ক্রসিংয়ের কথা ছিল।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্রসিংয়ের জন্য আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করছিল সিক্সডাউন ট্রেন উত্তরা এক্সপ্রেস। এসময় লাইনটির পয়েন্ট পরিবর্তন করে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল পি.ম্যান রওশন আলীর। কিন্তু, তিনি লাইন পরিবর্তন করেননি। যে কারণে বিপরীত দিক থেকে রাজশাহী অভিমুখে আসা আন্তঃনগর ট্রেন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস একই লাইনে ঢুকে পড়ে। তবে চালকের দক্ষতার কারণে ট্রেনটি উত্তরা এক্সপ্রেসের সামনাসামনি গিয়ে শেষ পর্যন্ত থামানো যায়। ফলে অল্পের জন্য মুখোমুখী সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পায় উত্তরা ও কপোতাক্ষ। আর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান দুই ট্রেনের যাত্রীরা।

পরে ট্রেন দু’টি স্বাভাবিকভাবেই একে অপরকে অতিক্রম করে এবং নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে ঘটনার পরপরই দায়িত্বে অবহেলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহীর আড়ানী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বলেও জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ নামক স্থানে দু’টি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হন।