তানভীর সিদ্দিকী তোয়াহা

লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের কথা বললে যে মানুষটার কথা আসে কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া তরুণ কাওসার আলম সোহেল । জন্ম ১৯৯২ সালের ১৮ জুলাই । বাবা মো. গিয়াস উদ্দীন ছিলেন সেনাবাহীনির কর্মকর্তা এবং মা রেহানা আক্তার গৃহিণী। কিভাবে কাওসার আলম সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে উঠলেন। স্বপ্প দেখাটা শুরু হয়েছিল ছোটবেলা থেকে। তিনি যখন স্কুলে পড়তেন তখন একদিন ক্লাসে বুলবুল ইউসুফ নামে একজন স্যার কবি কাজী নজরুলের উমর ফারুক কবিতাটি পড়াচ্ছিলেন।

‘মায়েরে ঘিরিয়া ক্ষুধাতুর দুইটি শিশু সকরুণ সুরে কাঁদিতেছে ,
আর দুঃখিনী মাতা ছেলেরে ভুলাতে হায়,
উনানে শূন্য হাঁড়ি চড়াইয়া কাদিয়া আকুলে চায়।’

এই চরণের অর্থ বলেছিলেন ‘ ক্ষুধাতুর দুইটি শিশু খাবারের জন্য কাঁদছে আর খাবার না থাকায় মা চুলায় শূন্য হাঁড়ি বসিয়ে সন্তানদের মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বলেছে বাবা ঘুমিয়ে পড়, আমি রান্না করছি একটু পর রান্না হলে তোদের ডেকে খাবার দিব। এই কথাগুলো শুনার পুর থেকেই চোখে থেকে জল পরছিল সেই তরুণ কাওসার আলম সোহেলের । তখন তিনি ভাবতে থাকেন এই দেশ আমার এই জাতি আমার এবং এটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব ও আমার। আর সেই ভাবনা থেকেই ২০০৫ সালে চিন্তা শুরু হয় একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলার । আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন সেনা কল্যাণ থেকে পাওয়া বৃত্তির জমানো অর্থ এবং ছোট বোন ফারজানার সেনা কল্যাণ থেকে বৃত্তি এবং কানের দুল বিক্রির অর্থ দিয়ে ২০১১ সালের ২৪ মে গড়ে তুললেন একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন নাম দিলেন ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের রং লাল, আর সবুজ শ্যামল প্রকৃতি, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সংঘবদ্ধ দল ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’ ।

এখান থেকেই কাওসার আলম সোহেল শুরু করলেন সমাজের জন্য কাজ। শুরু করলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন, শুরু করলেন মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এর ধারাবাহিকতায় নিজের পরিবারের মায়া ত্যাগ করে তার দেশমাতাকে অন্যায় রক্ষা করতে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য ২০১৭ সালের ৭ মার্চ যাত্রা শুরু করে তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় প্রায় একটানা ৬ মাস অর্থাৎ ১৮৫ দিন মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। কখন ও সড়ক পথে আবার কখন ও জল পথে খেয়ে না খেয়ে করেছেন মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই । এখন পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মহান এই মানুষটি।

লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের কাজ হচ্ছে এই সমাজের দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা । শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় পরিচালিত এই সংগঠন বর্তমানে দেশের প্রায় ৫৪টি জেলায় পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেমিনার করে জঙ্গবাদ, মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দুর্নীতিসহ সকল অন্যায়কে না বলে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয় এবং সত্যবাদীতা, দেশ্রপ্রেম, মানবতাকে হ্যাঁ বলে সবুজ কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের মাঝে শপথ পাঠ করানো হয়। কুমিল্লার সেই ছেলে কাওসার আলমের স্বপ্ন আজ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে । আজ লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিটি সদস্য কাওসার আলম সোহেলের দেখা সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য দিনরাত সমাজের জন্য কাজ করছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে । আজ বাংলাদেশের তরুণদের কাছে কাওসার আলম সোহেল এক অনুপ্রেরণার নাম উদ্দীপনার নাম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই গান-

‘ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরনীতল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল,
চলরে চলরে চল”।

এই লাইনের মতোই দেশের তরুণদের নিয়ে তার পথ চলা । বিখ্যাত লেখক হেলাল হাফিজ লিখেছিলেন
‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।’

আর এই যৌবনেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা স্বপ্নদ্রষ্টা কাওসার আলম সোহেল । তার এই লড়াই চলব, এই সমাজ সবধরনের অন্যায় থেকে মুক্তি পাবে এই প্রত্যাশা ।

জয় হোক মানবতার
জয় হোক ১৭কোটি মানুষের
জয় হোক কাওসার আলম সোহেলের।

লেখক- কবি ও সাংগঠনিক সম্পাদক, লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ, হবিগঞ্জ জেলা।