দিনমজুর নুরুল হুদা মিন্টু। বয়স ৫২। জন্মের পর থেকেই কালেঙ্গা ফরেস্ট এলাকায় সরকারি জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। বন বিভাগের জায়গা, তাই ফরেস্ট এলাকা থেকে তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে কয়েকবার। তার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল ‘কাচা কিংবা পাঁকা’ নিজের একটি বাড়ি।

অবশেষে সেই স্বপ্ন পুড়ন হলো নুরুল হুদা মিন্টুর। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ‘চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী আশ্রায়ন প্রকল্পের’ ৪০ নম্বর ঘরটি পেয়েছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে নিজের জন্য বরাদ্দ ঘরটি দেখতে যান মিন্টু। বেশ কিছুক্ষণ ঘরটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। চোখ দিয়ে ঝড়ছিল আনন্দের অশ্রু।

মিন্টু বলেন, ‘আমার জীবনের স্বপ্ন আছল নিজের একটা ঘর হইব। সারাজীবন এই ঘরের লাইগ্গা কানছি। কিন্তু শেষ জীবনে আমার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমারে দুই শতক জমি দিছেন। পাঁকা একটা ঘর বানাইয়া দিছেন। এখন আমারে ভূমিহীন বইলা বন বিভাগের লোকজন আর উচ্ছেদ করত পারত না।’

শুধু মিন্টু নয়, এমন ঘর পেয়ে খুশি ওই এলাকার বাবুল মিয়া (৫৮), বিধবা রহিমা খাতুন (২৬), আলেয়া খাতুন (৩৫) ও আজিমা খাতুন (৬০)-এর মত ৭৪ জন ভূমিহীন অসহায় পরিবার। তাদের প্রত্যেকেরই আনন্দ ধরে রাখে কে।

শনিবার সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হবিগঞ্জের ৭৮৭টি গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন এই ঘর। শনিবার প্রথম ধাপে ৩২৫টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আর প্রতিটিতে পরিবহন ব্যয় হিসেবে দেয়া হয়েছে আরও ৪ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। চুনারুঘাট উপজেলায় ৭৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন ঘর।’