দিনরাত ন্যাশনাল ডেস্ক : রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল নয়টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটারের উপস্থিতি একেবারেই কম। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন-দুজন করে ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ছে।

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ গত ১৪ জুলাই মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। ১ সেপ্টেম্বর এই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১০টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সব মিলিয়ে গড়ে ১০-১৫ জন করে ভোটার ভোট দিয়েছেন। শহর এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনের ১৭৫টি কেন্দ্রের সব কটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

কেরামতিয়া উচ্চবিদ্যালয়, মরিয়ম নেছা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মুন্সিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেল্লাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বর্ডার গার্ড উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্ত আছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রধান সড়কসহ ভোটকেন্দ্রগুলোতে টহল অব্যাহত রেখেছেন।

কেরামতিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম শাহতাবউদ্দীন বেলা সাড়ে ১১টায় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে। ভোটারের হার যত কমই হোক না কেন, তার মধ্য থেকেই ফলাফত ল নির্বাচিহবে। কেননা, ভোটারের হার নিয়ে কোনো বিধিবিধান নেই।’

আজকের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাপার রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ, বিএনপির রিটা রহমান, এনপিপির শফিউল আলম, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল, গণফ্রন্টের কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে রেজাউল করিম মনোনয়নপত্র তুললেও পরে মহাজোটের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। মূলত এরপর থেকেই এই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ অনেকটা হারিয়ে যায়। এখন ছয় প্রার্থীর মধ্যে সাদ, রিটা ও শাহরিয়ারের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এরশাদ জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করার পর দলটি ১৯৮৬ সাল থেকে এই আসনে একচেটিয়া জিতে আসছে। এবার এরশাদের স্থলে নির্বাচন করছেন তাঁর ছেলে সাদ এরশাদ। এরশাদেরই ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে ভালো করতে চায় বিএনপিও। ইভিএমে ভোটগ্রহণ হওয়ায় খুব দ্রুত নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।