দিনরাত প্রতিনিধি, ওসমানীনগর : ওসমানীনগরে পিতা ও আপন ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে বসতঘর উচ্ছেদ ও ঘরে থাকা মালামাল লুটের অভিযোগ করেছেন এক হতদরিদ্র নারীর।

এ ব্যাপারে ওই মহিলার পিতা উপজেলার নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের ওয়ারিছ আলী, ভাই আক্কাস আলী, ভাইয়ের স্ত্রী জুয়েনা বেগম, বোন জামাই ইব্রাহীম মিয়া, ভাতিজা পুত্র আনু মিয়া, আলী হোসনের নাম উল্লেখ করে থানায় পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন একই গ্রামের আব্দুল বশরের স্ত্রী সুফিয়া বেগম।
অভিযোগ উঠেছে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও তদন্তকারী কর্মকর্তার রহস্যজনক ভূমিকার কারণে পরবর্তীতে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে হতদরিদ্র মহিলার বসত ঘরটি উচ্ছেদ করায় ছোট ছোট সন্তান নিয়ে ওই মহিলা আশ্রয়ের জন্য গ্রামের বিভিন্ন জনের বাড়িতে গিয়ে ধর্না দিতে হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুরঙ্গা গ্রামস্থ পিতার বাড়িতে পৃথক বসতঘর বানিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন সুফিয়া বেগম। পিতা ওয়ারিছ আলী তার বাড়ির অর্ধেক জায়গা সুফিয়া বেগমের নামে রেজিষ্ট্রারী করে দেয়ার আশ্বাসে মেয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু ওয়ারিছ আলী ও তার পুত্র আক্কাছ আলী যথা সময়ে সুফিয়া বেগমকে জায়গা রেজিষ্ট্রারী করে না দিয়ে নানা অযুহাতে সময় ক্ষেপন করে আসছেন। গত ১৪ নভেম্বর সুফিয়া বেগম পিতা ওয়ারিস আলীর কাছে জায়গা রেজিষ্ট্রারীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পুত্রদের নিয়ে মেয়ের বসত ঘর ভাংচুরসহ হামলার চালান।

এসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সুফিয়া বেগম তাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে এ ঘটনায় পিতা ও ভাইকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার এস আই কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে আসার পর অভিযুক্তরা বেপরোয়া হয়ে উঠে গত ২৪ নভেম্বর বিকালে পরিকল্পিত ভাবে সুফিয়া বেগমের বসতঘর উচ্ছেদ ঘরে থাকা মালামাল লুট করে। এ সময় সুফিয়া বেগম ও তার স্বামী তাদের বাধা দিলে অভিযুক্তরা পিঠিয়ে তাকেও মারাত্বক আহত করে। অবুঝ তিন সন্তানসহ সুফিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আবুল বশর বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসা নেন। বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি এখনো ঘটনা স্থলেও না গিয়ে এ ব্যপারে পৃথক অভিযোগ দাখিলের জন্য সুফিয়া বেগমকে পরামর্শদেন। অবশেষে ২৫ নভেম্বর সুফিয়া বেগেম ওসমানীনগর থানায় উচ্ছেদ ও মালামাল লোটের অভিযোগে ৭ জনের নাম উল্যেখ করে পৃথক অভিযোগ দায়ের করে।

এ ব্যপারে সুফিয়া বেগম কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, জায়গা দেওয়ার কথা বলে পিতাও ভাই মিলে আমার টাকা পয়সা আত্মসাতের পর বসতঘর উচ্ছেদ করায় অবুঝ শিশুদের নিয়ে রাস্তায় বসবাস করতে হচ্ছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে। বসতঘর উচ্ছেদ করে মালামাল লুট করে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানানোর পরও তিনি রহস্য জনক ভূমিকা পালন করেন এবং উচ্ছেদের ব্যপারে আমাকে পৃথক অভিযোগ দেয়ার কথা বলেন। আমি হতদরিদ্র বলে সমাজের কোথাও বিচার পাচ্ছিনা।

বসতঘর উচ্ছেদের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত আক্কাস আলী বলেন, থানা পুলিশও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় আমরা সুফিয়াকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিলো কিন্তু সে টাকা নেয়নি। তাই আমরা ঘর ভেঙ্গে দিয়েছি।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই কামাল বলেন, ভাংচুরের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় স্থানীয়দের মাধ্যমে আপোষে নিস্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছিলো। বসত ঘর উচ্ছেদের ব্যপারে সুফিয়া বেগম থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ গুলো তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেওয়া হচ্ছে।