এখনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি প্রকাশ্যে ধুমপান করা সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রনিক পাল, ওসমানীনগর : ছোট শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। কোমলমতি শিশুদের জীবনের প্রথম পাবলিক পরিক্ষা এটি। জীবনের সুচনালগ্নের এ পাবলিক পরীক্ষায়ও ওসমানীনগর উপজেলায় চলছে নানা অনিয়ম।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দ্বায়িত্বে থাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মরত ব্যক্তিরা এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রতি পর্ব থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছেন। উপজেলার একাধিক কেন্দ্র প্রধান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত দ্বায়িত্বপ্রাপ্তদের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্তরাসহ সাধারণ শিক্ষক সমাজ ও অভিবাবকের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার পরিক্ষা চলাকালিন সময়ে উপজেলার বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে হল সুপার স্বপন কেন্দ্রের ভিতরে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়ায় গোটা উপজেলায় জড় উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মুমিন মিয়া ও প্রশাসনের অনান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বিষয়টি নিয়ে দায়সারা ভাব দেখা দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না ।

সূত্র জানায়- সমাপানী পরিক্ষার প্রথম দিনের পরিক্ষায় কেন্দ্রের ভিতরে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে ধুমপান করে সমালোচনায় আসেন উপজেলার ফকিরাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দাস। তিনি বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজের হল সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন।

সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায় কেন্দ্রের ভিতরে প্রকাশ্য ধূমপানরত অবস্থায় কেন্দ্রের অনান্য দ্বায়িত্বরত সাথে কথা বলছেন। ফেসবুকে আপলোডকৃত ছবিতে বিভিন্ন জন সমালোচনা করে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন।

ঔধভধৎ অযসবফ নামের একজন গুঁরনঁৎ জধযসধহ ঝধুবফ নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘কতো বড় অসভ্য বেয়াদব হলে এমন করে ধূমপান করতে পারে? এমন অসভ্যদের কারণে আজ সমাজের মানুষ শিক্ষিতদের কে গালি দিয়ে কথা বলে।’

মাওলানা আব্দাল হুসাইন হাজীপুরী নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করে লিখেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যকে নষ্ট করল। এ ছাড়া ছবিগুলো সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর থেকে গোটা সমালোচনার জড় বইছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক শিক্ষকরা জানান, ‘এবারের সমাপনি পরিক্ষার প্রস্তুতি পূর্ব থেকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কতিপয় ব্যক্তিদের যোগসাজগে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছেন। উপজেলার সকল বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের থেকে সম্মন্নয় করে পরিক্ষার ডিউটির দ্বায়িত্ব দেয়া বিধান থাকলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মুমিন মিয়ার স্বজনপ্রীতি ও সেচ্ছাচারিতার নীতির কারণে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কর্মরত থাকা শিক্ষকদের পরিক্ষার ডিউটিতে না দিলেও একাধিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক রেখে বাকি সবাইকে ডিউটি পালনের দ্বায়িত্ব দেয়ায় পরিক্ষা চলাকালিন সময়ে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ভিগ্ন ঘটছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার এমন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে আজ প্রকাশ্যে ধুমপান সহ একাধিক কেন্দ্রের ভিতরে পরিক্ষা চলাকালিন সময়ে নতুন নতুন অনিয়মের প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও ঘটছে। চাকুরীর ভয়ে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছি না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দ্বায়িত্ব) আব্দুল মুুমিন মিয়া বলেন, ‘সমাপনি পরিক্ষার সকল কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই হচ্ছে।’

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বায়োজিদ খান বলেন, ‘এ বিষয়গুলো আমি শুনেছি। তদন্তপূর্ব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’