দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা কমলেও ভারতে প্রতিনিয়তই হচ্ছে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর রেকর্ড।

দেশটিতে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৫২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একদিনে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার মানুষের দেহে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মহামারি শুরুর পর মৃত্যুর এ সংখ্যাটিই এক দিনে সর্বোচ্চ।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় বিপর্যস্ত ভারত। তবে ১৩৩ কোটি মানুষের দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পরও সংক্রমণ মোট জনগোষ্ঠীর ২ শতাংশের নিচে রাখা সম্ভব হয়েছে।

করোনায় ভারতের অনেক রাজ্যেই দেখা দিয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণের স্বল্পতা। টিকার প্রয়োজনীয় ডোজ পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে অনেক রাজ্য।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বিভিন্ন রাজ্যে প্রয়োগের জন্য মজুত রয়েছে টিকার ১ কোটি ৯৪ লাখের বেশি ডোজ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার বলেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর একটি পন্থা হলো টিকাদান এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এ নিয়ে সব শঙ্কা দূর করা উচিত। টিকা সরবরাহ বাড়াতে আমরা বিরামহীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ২৭০ জন চিকিৎসকের। দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

ভাইরাসে প্রাণ হারানো চিকিৎসকদের মধ্যে আইএমএর সাবেক সভাপতি কেকে আগারওয়ালও রয়েছেন।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। কর্ণাটকে মৃত্যু হয় ৫২৫ জনের। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে মৃত্যু হয় ৩৬৪ জনের।

তামিলনাড়ুতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩৩ হাজারের বেশি মানুষের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়। অন্যদিকে কর্ণাটক ও কেরালার ক্ষেত্রে এ সংখ্যাটা ৩০ হাজারের বেশি।

কয়েক মাস ধরে সংক্রমণে শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্রে ২৮ হাজার ৪৩৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।