প্রায় আট মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ফটোসাংবাদিক ও দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল।

শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি বাসায় ফেরেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মনোরম পলক। তিনি বলেন, ‘শারীরিকভাবে বাবা বেশ দুর্বল। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’

গত ২ মে কাজলকে যাশোরের বেনাপোল থেকে আটক করে বিজিবি। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে ১৮ মার্চ থেকে তিনি নিঁখোজ ছিলেন।

তখন তাকে অপহরণের অভিযোগ এনে ঢাকার চকবাজার থানায় মামলা করেন কাজলের ছেলে।

কাজলের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা ছিল।

যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে গত ৯ মার্চ রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানায় কাজলসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলাটি হয়। এর বাদী মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর।

এরপর ১০-১১ মার্চ রাজধানী হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১১ মার্চ একটি মামলাটি করেন যুব মহিলা লীগের নেত্রী ইয়াসমিন আরা ওরফে বেলী। আরেকটি মামলা করেন সুমাইয়া চৌধুরী বন্যা।

৩ মে অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবিও একটি মামলা করে আলোচিত এই ফটোসাংবাদিকের বিরুদ্ধে। পরে ঢাকার কোতোয়ালি মডেল থানা ৫৪ ধারায় আরও একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।

ঢাকা থেকে নিখোঁজের ৫৩ দিন পর গত ২ মে রাতে যশোরের বেনাপোলের ভারতীয় সীমান্ত সাদিপুর থেকে অনুপ্রবেশের দায়ে শফিকুল ইসলাম কাজলকে আটক করে বিজিবি।

পরদিন ৩ মে অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবির দায়ের করা মামলায় আদালতে সাংবাদিক কাজলের জামিন মঞ্জুর হলেও পরবর্তীতে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৫৪ ধারায় অপর একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই থেকে সাংবাদিক কাজল কারাগারে আছেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর সবগুলো মামলায় কাজলের জামিন নিশ্চিত হয়। এরপর থেকে তিনি মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর কাজলের জামিননামা আদালতে জমা দেয়া হয়। পরে তা কারাগারে পাঠানো হয়।

কাজলকে গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তির দাবিতে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার ও গণমাধ্যম বিষয়ক সংগঠন একাধিক বিবৃতি দিয়েছে। রাজধানীতেও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তার ছেলে মনোরম পলকের নানা উদ্যোগ দৃষ্টি কেড়েছে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে।