আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অবরুদ্ধ কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে পশুসুলভ আচরণ করছে আরএসএস মতাদর্শী মোদি সরকার বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে কাশ্মীর নিয়ে ইমরান খানের এমন বক্তব্যকে ভারত মিথ্যাচার বলে দাবি করেছে।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে পাক প্রধানমন্ত্রী ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মানবিক সংকট ও সেখানকার নাগরিকদের অবরুদ্ধ জীবনযাপনের বিষয়টি তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

ইমরান খান বলেন, গত ৫২ দিন ধরে ৮০ লাখ কাশ্মীরিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ৯ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করে সেখানকার নাগরিকদের সঙ্গে পশুসূলভ আচরণ করছে আরএসএস মতাদর্শী মোদি সরকার।

মোদি সরকারকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বর্তমান সরকার হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মতাদর্শী। এ সরকারের হাতেই গুজরাটে মুসলিমদের ওপর গণহত্যা পরিচালিত হয়েছে। কাশ্মীরে কারফিউ প্রত্যাহারের হলে এখানে গণহত্যার আশঙ্কা রয়েছে।

কারফিউ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ইমরান খান বলেন, অবিলম্বে কাশ্মীরের ‘অমানবিক কারফিউ’ অপসারণ করা উচিত এবং সমস্ত আটক ব্যক্তিদের মুক্ত করা উচিত।

মুসলিম নির্যাতনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, মুসলমানদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় নিরব হয়ে বসে থাকে। আজকে যদি ইহুদিরা এভাবে অবরুদ্ধ থাকতো, তাহলে কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এমন হতো? রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হলো, আন্তর্জাতিক শক্তি কি ভূমিকা পালন করেছে?

মুসলমানরা ইনসাফের অভাবেই উগ্রবাদ ছড়ায় জানিয়ে ইমরান খান বলেন, মুসলিমদের মধ্যে যারা উগ্রবাদে জড়ায়, তারা ইসলামের কারণে নয় ইনসাফের অভাবেই এ পথে পা বাড়ায়। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায় এড়াতে পারে না।

এ সময় ইমরান খান দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশ লড়াই করে, গোটা বিশ্বে তার ‘প্রভাব’ পড়ে বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এটা জাতিসংঘের কাছে একটি পরীক্ষা’। ১৫ মিনিটের এই ভাষণে, বেশীরভাগ সময়েই জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা নিয়ে বক্তব্য দেন ইমরান খান।

এদিকে ইমরান খানের দেওয়া জাতিসংঘের ভাষণের সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বিদিশা মৈত্র বলেন, জাতিসংঘে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ঘৃণায় ভরা, উসকানিমূলক। তার ভাষণে তিনি মিথ্যাচার করেছেন।