দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলার ১৫ বছর আজ। জঘন্নতম এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিচার কার্য আলোর মুখ দেখেনি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। পাশাপাশি একই আর্থনাদ আহতদের।

অপরদিকে, বিভিন্ন সময় দলের জন্য ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হলেও বৈদ্যের বাজারের গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবার অবহেলিত। অনাহার অর্ধাহারের দিন কাটছে নিহত তিন পরিবারের। পাশাপাশি আহতরাও তেমন কোন সহযোগিতা পাননি।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বৈদ্যের বাজারে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় নিহত হন হবিগঞ্জ-লাখাই ৩ আসনের তৎকালিন সংসদ সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। ওই হামলায় শাহ এএমএস কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদাসহ প্রাণ হারান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। এতে আহত হন কমপক্ষে শতাধিক নেতাকর্মী।

নিহতদের মধ্যে আব্দুর রহিমের পরিবারের অবস্থা খুবই নাজুক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে পরিবারটির। বর্তমানে ১৬ বছরের একমাত্র ছেলে ধরেছেন পরিবারের হাল। কিন্তু চারজনের পরিবারটি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ওই কিশোরের। আব্দুর রহিমের মেয়ে লিজা আক্তার কলেজে পড়লেও টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধের পথে।

সরেজমিনে আব্দুর রহিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- বাঁশ ও ছনের তৈরী ছোট একটি ঘরে বসবাস করছে তিন সদস্যের এই পরিবারটি। ঘরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ধরলেও টাকার অভাবে মেরামত করার ম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু বেঁচে থাকার জীবন সংগ্রামের মধ্যেও স্বজন হত্যার বিচার চান পরিবারটি।

নিহত আব্দুর রহিমের মেয়ে লিজা আক্তার বলেন- ‘আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার বাবা গ্রেনেড হামলায় মারা গেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোন বিচার পাইনি। বাবা মারা যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতারা ভুলেও আমাদের দেখতে আসেন না।’

তিনি বলেন- ‘আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পারছি না। বাড়ি-ঘর ভেঙে যাচ্ছে কিন্তু মেরামত করতে পারছি না।’

আব্দুর রহিমের স্ত্রী আছিয়া খাতুন বলেন- ‘স্বামী হত্যার বিচারের আশা করতে করতে ১৫ বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখন বিচার পাইনি। এমনকি হত্যার পর সরকার থেকে কিছু সহযোগিতা করা হলেও এখন আর কেউ আমাদের খবর রাখেন না। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে আমাদের।’

এ ব্যাপারে নিহত সিদ্দীক আলীর স্ত্রী ছুরতা বানু বলেন- ‘বিচার হইব হইব শুনতে শুনতে ১৫ বছর হইয়া গেছে। কিন্তু আমরা বিচার পাইতেছি না। আওয়ামী লীগের জন্য জীবন দিয়েছেন আমার স্বামী। বিভিন্ন মানুষে বিধবা ভাতা পেলেও আমি কোন বিধবা ভাতা পাইনি।’

এদিকে, গ্রেনেড হামলায় গুরুত্বর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। ওই ঘটনায় ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেলেও কেটে ফেলে দেয়া খাদ্যনালি। এমনকি, ভুলক্রমে তার মৃত্যুর সংবাদ টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার খবরে গুরুত্বর আসুস্থ্য হয়ে তার পিতা মৃত্যুবরণ করেন। আর্থিকভাবে কিছুটা স্বচ্ছল হলেও দল তাকে তেমন কিছু দেয়নি। পঙ্গু হয়েও জনগণের সেবা করতে চান তিনি। এলাকায় ব্যপক জনপ্রিয়তা থাকার কারণে বিগত উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন চাইলেও দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি ত্যাগী এই নেতাকে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন- ‘দল কি দিল না দিল সেটা বিষয় নয়। তবে আমি চাই দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্য সম্পন্ন হোক। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালিন বিচার কার্য সম্পন্ন না হলে আর বিচারের আশা করা যায় না।’