দিনরাত ডেস্ক : বাংলাদেশ কৃষক লীগের ১০ম জাতীয় সম্মেলন বুধবার (৬ নভেম্বর)। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর আবারও আওয়ামী লীগের সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে।

কৃষক লীগকে দিয়ে শুরু হয়ে ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আওয়ামী লীগের সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন। এরপরে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন।

বুধবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রথম অধিবেশনে জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।

কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বিটু বলেন, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমরা সারা ঢাকা শহরে প্রচারণা চালিয়েছি। কৃষক লীগ যেহেতু গ্রামের সংগঠন, সেহেতু জেলাগুলোতে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সেখানকার জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে আমরা পোস্টার লাগিয়েছি। কাউন্সিলরের কাজ, আমন্ত্রণপত্র বিতরণ শেষ হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুতিও শেষ। মোট কথায় আমাদের সম্মেলন প্রস্তুতির সব কাজ শেষ করেছি। আশা করছি, এবারের সম্মেলন অতীতের চেয়ে আরও অনেক সুন্দর হবে।

কৃষক লীগের এবারের সম্মেলন মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধারণ করে কৃষকের কাচারি ঘরের আদলে। ইতোমধ্যেই মঞ্চটি নজর কেড়েছে নেতা-কর্মীদের। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় পরিদর্শন করে মঞ্চ তৈরির কাজে সরাসারি নির্দেশনা দিয়েছেন।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র বলেন, আমাদের মঞ্চটি একটু ব্যতিক্রমী। এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা দেখলে মনে হবে গ্রামে আছি। কৃষকের কাচারি ঘরে বসে সামনের দিকে তাকালে যেমন উপলব্ধি হয়, ঠিক সেভাবে তৈরি করা হয়েছে এটি।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, লম্বায় ৯০ ফুট আর প্রস্থে ৩০ ফুট রেখে মঞ্চ তৈরি হয়েছে। যাতে ব্যবহৃত হয়েছে প্লাস্টিকের টিন, ডানে-বামে জানালা আছে। মনেই হবে না যে এটা মঞ্চ, বরং গ্রামের একজন কৃষকের বাড়ি বললে বেশি মানানসই। মঞ্চে ওঠার সিঁড়ির সামনে আছে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ এর একটি ঘর ও এর প্রতিচ্ছবি। মঞ্চের সামনে সাজানো হয়েছে হাঁটবাজার। যেখানে কৃষক তার কৃষি পণ্য বিক্রি করার জন্য পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এছাড়াও মঞ্চের ডান এবং বাম পাশে কৃষি কাজের আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করা হয়েছে।

মঞ্চের সামনে রয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। উপরে সামিয়ানা। সাউন্ড সিস্টেমও বাসানো শেষ। মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেও থরে থরে চেয়ার সাজানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন শ্রমিকরা।

মঞ্চ উপ-কমিটির সদস্য সচিব কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ মো. সাখাওয়াত হোসেন সুইট বলেন, প্রায় ১৫ হাজার নেতাকর্মীর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামনের কাতারে বসবেন দেশের গুণীজন ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। এবার সম্মেলনে দুই জন বিদেশি অতিথি থাকবেন।

কৃষক লীগের সবশেষ সম্মেলন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৭ বছর পরে কৃষক লীগের সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীরাও চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে সাজ সাজ রব। সম্মেলনস্থলসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার ফেস্টুনও লক্ষ্য করা গেছে।

এদের মধ্যে শীর্ষ দুই পদে কারা আসছেন সেটা নিয়েই জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। সভাপতি পদে বেশি আলোচনায় আছেন—কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধ শরীফ আশরাফ হোসেন, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আকবর আলী চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদশা। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা সভাপতি পদের জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, সাখাওয়াত হোসেন সুইট, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, গাজী জসিম উদ্দিন ও আবুল হোসেন।

প্রসঙ্গত, দেশের কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন।