বাজারে কেজিতে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগির দাম। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। এ নিয়ে চলতি মাসে দুই দফায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ২০ টাকা। মাসের শুরুতে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছিল না।

ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও ‘পাকিস্তানি কক’ বা ‘সোনালী মুরগি’ এবং ‘লাল লেয়ার মুরগি’র দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে।

ব্রয়লার মুরগির দাম কমার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে হোটেলগুলোর বিক্রি কমে গেছে। এছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানও হচ্ছে না। এ কারণে মুরগির চাহিদা কমেছে। তাছাড়া সাধারণ মানুষও কেনা কমিয়ে দিয়েছে। সবকিছু মিলে দাম কমেছে।

ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, ‘লকডাউন শুরুর আগে সোনালী মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ছিল ১৬০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ২৩০ টাকা কেজি ছিল। লকডাউন ঘোষণার পর সোনালী মুরগির কেজি ২৫০ টাকায় নেমে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুরগির সব থেকে বড় ক্রেতা হোটেল ও ফাস্টফুডের দোকানগুলো। লকডাউনের কারণে মানুষ বাইরে কম বের হচ্ছে। এ কারণে হোটেল ও ফাস্টফুডের দোকানগুলোর বিক্রিও কমে গেছে। তাই মুরগির চাহিদা এবং দাম উভয়ই কমেছে।’

ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা যে মুরগি বিক্রি করি তার অর্ধেকের বেশি নেয় বিভিন্ন হোটেল। লকডাউনের কারণে এখন হোটেলগুলোতে মুরগি কেনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। লকডাউন বাড়লে আমাদের ধারণা মুরগির দাম আরও কমে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘হোটেলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও মুরগি কেনা কমিয়ে দিয়েছে। অথচ যখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ টাকা ছিল মানুষ তখন বেশি পরিমাণে কিনেছে। এখন ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি করলেও আগের তুলনায় অর্ধেক ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না।’

সামনে মুরগির দাম কমার কারণ হিসেবে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখন মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তাছাড়া আবহাওয়া বেশ গরম। এই গরমে ব্রয়লার মুরগি বেশি দিন রাখা যায় না। আবার বড় হয়ে যাওয়ার পর ব্রয়লার মুরগি ধরে রাখলেই লোকসান। কারণ এদের খাবারের খরচ অনেক। সবকিছু বিবেচনায় বলা যায় সামনে ব্রয়লারের দাম কমবে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কমলে অন্যান্য মুরগির দামও কমবে। তবে লকডাউন উঠে গেলে দাম ফের বেড়ে যেতে পারে।’