দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে গড়তে সোনার দেশ/এগিয়ে চলেছি দূর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’, এ স্লোগান নিয়ে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপ মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল। বিকাল ৩টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিলের উদ্বোধন করবেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন।

কেন্দ্রীয় কাউন্সিলকে ঘিরে হবিগঞ্জের ফের শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। যদিও জেলা কাউন্সিলের পর বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল রাজনৈতিক গুঞ্জন। কিন্তু কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আবারও সেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। এবার আলোচনার বিষয় হবিগঞ্জের কেউ কি থাকছেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ? আর সেই মিশনে হবিগঞ্জ জেলার কাদের থাকার সম্ভাবনা বেশি ?

কেন্দ্রীয় কমিটিতে হবিগঞ্জের একাধিক নেতার স্থান হচ্ছে বলে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। নিজেদের স্থান করে নিতে দৌড়ঝাঁপ করেছেন হবিগঞ্জের একাধিক নেতা। চালাচ্ছেন জোর লবিং-তদবির। তবে কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের ইঙ্গিত বলছে কোন পদ না পেলেও সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন হবিগঞ্জের একাধিক মুখ।

হবিগঞ্জ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে পারেন এমন পাঁচজনের নাম শুনা যাচ্ছে খুব জোড়ে-সুরেই। আবার হবিগঞ্জবাসীও প্রত্যাশা করছেন- তৃণমুল আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবিগঞ্জের নেতৃত্ব প্রশংসনিয়। তাই এ গতিশীলতা বাড়াতে এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে হবিগঞ্জের অন্তত তিনজনকে ঠাঁই দেয়া হবে।

আলোচনায় আছেন যারা :

ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী : দলে একজন নিবেদিত প্রাণকর্মী হিসেবে তিনি পরিচিত। এছাড়াও তাকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারকও বলা হয়ে থাকে। তিলে তিলে তৃণমূল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পদ অলঙ্কিত করেছেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। যে কারণে কেন্দ্রের ‘গুড বুকে’ও তার নাম রয়েছে বলে দাবি অনেকের। দলের শুদ্ধি অভিযানের পর আগামী কমিটি শতভাগ পরিচ্ছন্ন নেতাদের নিয়ে গঠনের পরিকল্পনা করছেন দলিয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার ফলে ডাঃ মুশফিক হোসেনের নামটি নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী : দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তিনি। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পার্টির দূর্গ হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ-৩ আসনে লাঙ্গলের প্রভাবশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেন। এছাড়াও তিনি জেলা আওয়ামী লীগকে সু-সংগঠিত করতে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। যে কারণে স্বীকৃতিসরূপ তাকে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদে সদস্য মনোনীত করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন সততার সাথে হবিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে এবারের কমিটিতে তার নামটিও আলোচনায় রয়েছে বলে শুনা যাচ্ছে।

এমপি আব্দুল মজিদ খান : প্রয়াত অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলার বাদি হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-২ আসন থেকে নৌকার মনোনয়নে বিজয়ী হন। পরে ২০১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনে পরপর নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক বিজয়ের গৌরব অর্জন করেন তিনি। হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও সদ্য অনুষ্ঠিত জেলা কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের চলতি দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই দেয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন উঠেছে।

আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া : মরনোত্তর ২১শে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর কন্যা হওয়ায় দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্নেহভাজন হিসেবে দশম সংসদে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত করা হয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বাহুবল-নবীগঞ্জ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালন করেন তিনি। বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ও নারী উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও দলে নারী নেতৃত্ব বিকাশে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগের কারণে তিনিও ঠাঁই করে নিতে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন : বিভিন্ন সমস্যা ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সারাদেশে আলোচনায় আসেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আইনের আওতায় নিয়ে আসাসহ বিভিন্ন অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে দেশে-বিদেশে যতেষ্ট সুনাম খুড়িয়েছেন। গত সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও শেষ মূহুর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। আলোচনা আছে, একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি হিসেবে তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।