শহজাহান মিয়া : আগামী ১৬ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের দ্বিতীয় সেশন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনকে ঘিরে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটির আহ্বায়ক বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর সদস্য সচিব বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চু।

এবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে যে নতুন কেউ আসছে সেটা এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাদেরকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে যারা এগিয়ে থাকবেন তারাই আসবে আগামী নেতৃত্ব।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে- আগামীতে যারা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসবেন তাদের মধ্যে আলোচনায় শীর্ষে আছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। তাকে সভাপতি পদে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেননা তিনি এরই মধ্যে শীর্ষ মহলের গুড বুকে রয়েছেন। নির্মল রঞ্জন গুহ স্কুল জীবনে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে কলেজ, জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতিতে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নিজ হাতে গড়া সেবা শান্তি প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা জেলার আহব্বায়ক, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও পরবর্তী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগে দায়িত্ব পালন কালে খালেদা-নিজামী জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে একাধিক বার জেল জুলুমের স্বীকার হয়েছেন এই নেতা।

এছাড়া সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন আফজালুর রহমান বাবু তিনি বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি। এছাড়া আলোচনায় আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মঈন উদ্দীন মঈন। মঈন উদ্দীন মঈন একই সাথে বি. বাড়ীয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে পারেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব মেসবাউল হোসেন সাচ্চু। যিনি বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনিও উচ্চ মহলের গুড বুকে রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দু’বারের সহ সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৬ সালের অসহযোগ আন্দোলন, ১/১১ তে জননেত্রী মুক্তি আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর ক্যান্টনমেন্ট থানা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আহবায়ক, বৃহত্তর ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগ দু’বারে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করেণ। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর বার বার গ্রেফতার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দীর্ঘদিন যাবৎ কারাবরণ এবং অসংখ্য মিথ্যা মামলার স্বীকার হয়েছিলেন।

বর্তমান সদস্য সচিব ও বারবার কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থাকার কারণে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সারা দেশের নেতা-কর্মীদের সাথেও রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ।

আলোচনায় আরও রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের দফতর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন এ কে এম আজিম। যিনি বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। আলোচনায় রয়েছেন খায়রুল হাসান জুয়েল, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা (সাংগঠনিক সম্পাদক), শেখ সোহেল রানা টিপু (সাংগঠনিক সম্পাদক), রফিকুল ইসলাম বিটু (সহ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক)।

তবে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে- বর্তমান আহবায়ক নির্মল রঞ্জন গুহকে সভাপতি এবং সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আগামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দেখা যাওয়ার সম্ভবনা বেশী। সম্মেলন পর্যন্ত দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার বার্তা প্রদান করা হয়েছে। এই দু’জনের কার বিরুদ্ধেই কোন প্রকার দূর্ণিতির অভিযোগ নেই। নিবেদিত প্রাণ, ত্যাগী নেতা হিসেবে দু’জনই পরিচিত।