দিনরাত সেন্ট্রাল ডেস্ক : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যাবেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের আইনী চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড.কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্যর প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, নির্বাহী সভাপতি অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ড. নুরুল আমিন বেপারী, জেএসডি সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন,বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন, ঐক্যপ্রক্রিয়ার মমিনুল ইসলাম. ফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেখতে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আজ রোববারই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রন্ট নেতাদের সেই বৈঠকে কোন কোন নেতা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন সেই নাম চূড়ান্ত করা হবে।

বৈঠক শেষে এসব কথা জানিয়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। সারা জাতি আজ উৎকন্ঠিত। যে কোনো সময় খালেদা জিয়ার একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ওনার একটা হাত অবশ হয়ে গেছে। উনি স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না, হাঁটতেও পারেন না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আহবায়ক ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাব। এজন্য আমরা শিগিরগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদন জানাবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী ২২ তারিখ আবরার হত্যার প্রতিবাদে সমাবেশ করতে ঘোষণা দিয়েছি। কিন্তু এখনও অনুমতি পাইনি। সরকার অনুমতি নিয়ে গাফিলতি করছে। যদি অনুমতি না দেয়া হয় তাহলে জনগণ বাধ্য হবে তাদের নাগরিক অধিকার আদায় করতে।

বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন অেভিযোগ করেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে, সেই সমাবেশের এখন পর্যন্ত অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তিনি বলেন, সমাবেশের অনুমতি কোনো দয়া-মায়ার ব্যাপার নয়, এটা সাংবিধানিক অধিকার। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমতি দেয়া হোক। আমরা জনগণের ঐক্যের কথা সেখানে তুলে ধরব। কোনো সংঘাত-সংঘর্ষের ব্যাপার নয়, কোনো বিরোধের ব্যাপার নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, দেরিতে হলেও রাশেদ খান মেনন স্বীকার করেছেন গত ৩০ ডিসেম্বর কোনো ভোট হয়নি। এতে আমি খুশি হয়েছি। স্বীকার করার জন্য মেনন সাহেবকে ধন্যবাদ।

বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেসব কর্মসূচি নিয়েছে তার মধ্যে হল-অসুস্থ খালেদা জিয়াকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে শীর্ষ নেতারা দ্রুত দেখতে যাবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যাণে আবরার হত্যার প্রতিবাদে গণ শোক সমাবেশ ২২ অক্টোবর বেলা ৩ টায় হবে। এছাড়া, আবরার হত্যার বিচারের দাবীতে দেশে-বিদেশে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান। এ স্বাক্ষর ওয়াইবসাইটে সংগ্রহ করা হবে ‘রক্তের অক্ষরে’ তা সমাবেশের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।