দিনরাত প্রতিবেদক : প্রায় দেড় বছর ধরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় কারাভোগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তার মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও এক সময় বিষয়টি জিমিয়ে পরে। কিন্তু গেলো সপ্তাহ থেকে বিষয়টি আবারও ব্যাপকভাবে আলোচনায় পরিণত হয়। সম্প্রতি বিএনপি দলীয় ৭ জন সংসদ সদস্য দুই ভাগে ভাগ হয়ে দু’দিনে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারপর থেকেই খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি বিষয়টি আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। দলীয় প্রধানের মুক্তি প্রশ্নে আগের চেয়ে সরকারের হাই কমান্ড বেশ নমনীয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের শর্ত হচ্ছে ‘দোষ স্বীকার’ করে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে হবে।

তবে, কোনোক্রমেই প্যারোলে মুক্তির পক্ষে নন স্বয়ং খালেদা জিয়া। তিনি স্পষ্টভাষায় দলীয় নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন- কোনোক্রমেই প্যারোল নয়, আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির প্রচেষ্টা চালাতে। কারণ জামিন পাওয়া তার অধিকার। তিনি নিজের মুক্তির জন্য কারও কাছে অনুকম্পা চান না।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে তা জামিনযোগ্য। আইন তার নিজের পথে চললে খালেদা জিয়া স্বাভাবিকভাবেই জামিন পাবেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইছি আমরা, প্যারোলে নয়। জামিন তার প্রাপ্য।

এদিকে, গেল মাসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বলেন, আমরা আগেও বলেছি, খালেদা জিয়া প্যারোলের আবেদন করলে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা বিবেচনা করবে। তবে প্যারোল চাওয়ার যে গ্রাউন্ড সেটি খালেদা জিয়ার আছে কি-না তা বিবেচনা করা হবে।

আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন- মুক্তির জন্য কারও কাছে মাথা নত করবেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এখন বাংলাদেশের ১৬-১৭ কোটি মানুষেরই নেতা। সুতরাং হয় তার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ায় হবে, আর তা না হলে জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে তার মুক্তি হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন প্যারোলের বিষয়টি প্রত্যাখান করে বলেন, আল্লাহর নামে শপথ নিয়ে বলছি আর কোনদিন করুণা ভিক্ষা করবো না। আমরা অনেক দেখেছি, আমাদের ধৈর্যচ্যুতি হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সংবিধানে হাইকোর্টকে যে অধিকার দেয়া হয়ে়ছে সেখানে যদি আইনের শাসন না থাকে তাহলে সেই হাইকোর্ট থাকার অস্তিত্ব নাই। আমরা শপথ নিয়েছি, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।