দিনরাত ডেস্ক : খালেদা জিয়ার হাওয়া ভবনই ক্যাসিনোর জন্মস্থান বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

‘ক্ষমতাসীনরা প্রতিটি ঘরকে ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর বানিয়েছে’ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার সেনানিবাসস্থ শ্যুটিং ক্লাব পয়েন্টে আন্ডারপাস নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্যসিনোতো হাওয়া ভবন থেকেই শুরু হয়েছে। কাজেই এ প্রশ্নের জবাব প্রথমে ফখরুল সাহেবকেই দিতে হবে। ক্যাসিনোর জন্মস্থান হাওয়া ভবন। এটা অনেকেই জানেন।’

কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই মদ জুয়ার প্রবর্তন করেছে বিএনপি সরকার। কাজেই এ কথা বলে লাভ নেই। তারা (বিএনপি) ব্যবস্থা নিতে পারেনি, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। খালেদা জিয়া যা পারেন নাই, শেখ হাসিনা তা পেরেছেন।’

সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘এ অভিযানকে সেনা প্রধান স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। কাজেই এখানে চুনোপুঁটি আর রাঘব বোয়াল বলে কথা নয়। আপনি হয়তো দেখতে চুনোপুঁটি কিন্তু কাজটা করেছেন রাঘব বোয়ালের মতো। যাদেরকে ধরা হচ্ছে, সত্যিকার অর্থেই তারা অপকর্মকারী। সত্যিকার অর্থেই তারা অভিযানের মূল টার্গেট।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই অভিযান শুধু ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন ও কুতুবদিয়া তেতুঁলিয়া সারা বাংলা যেখানে যত দুর্নীতিবাজ ও মাদকবাজ আছে সেখানে অভিযান চলবে। মাদক, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি যারাই করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে চুনোপুঁটি হোক আর রাঘব বোয়ালই হোক। শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে। যতদিন না এসব অপকর্ম আমরা নির্মূল করতে না পারব এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার (সাভার) মেজর জেনারেল আকবর হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল ইবনে ফজল সায়েখুজ্জামান, ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল এসএম আনোয়ার হোসেন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের কর্মকর্তাবৃন্দসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুন সম্পন্ন হয়।