বৃহস্পতিবার | ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

হিয়া ইসলাম

প্রকাশিত :

গল্প : প্রাণাত্যয় (২য় পর্ব)

হিয়া ইসলাম
প্রকাশিত :

‘চারদিকে বৃষ্টির জল শরীরে বৃষ্টির ফোঁটা, ছুঁয়ে দিলো নিদারুণ ব্যথা; কেটে গেল রেস মনে পড়লো,স্মৃতির আভাস’।

তাসনিমের ফোন পেয়ে ফার্মগেটের উদ্দেশ্য ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে পরলাম

-তুমি একটু আমায় ভালোবাসো না
-কে বললো?
-এই যে আমি ঢাকা আসলাম কতদিন আগে কিন্তু তোমার কোন সময় নেই এতোদিন পর আজ দেখা করলে।
-তুমি জানোই তো ভার্সিটি শেষ করে টিউশনিতে যেতে হয় আজ একটু সময় হাতে থাকায় তোমার সাথে দেখা করতে আসলাম।

আসলে আমরা এমনই প্রিয় মানুষের সাথে একটু দেখা করতে মন সব সময় ব্যাকুল হয়ে থাকে। কিন্তু প্রিয় মানুষরা যখন ব্যস্ততার নানা অজুহাত দেখায় তখনই আমাদের মনে কষ্টের পাহাড় জমা হয়। তবেই সেই কষ্ট টা যেনো কেমন কেমন প্রিয় মানুষের দেখা পেলেই তার দিকে অভিযোগ ছুড়ে মারি খানিক পর সেই মানুষের স্পর্শে আবার সব আগের মতোন হয়ে উঠে।

হঠাৎ গিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে আমি হাজির তাসনিমের পাশে একটা ছেলে দাঁড়ানো আগে কখনো দেখেছি বলে মনে হয় না তাসনিম দেখেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো এই জড়িয়ে ধরায় শান্তি অনেক অনেক দিন পর কাছের কোন মানুষকে পেয়ে আমার সব ক্লান্তি কেটে গেলো।

তাসনিম হয়তো আমাকে কাছে পেয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কথা ভুলেই গেছে। আমি একটু উৎসাহের বশে জিজ্ঞেস করলাম
– তোর পাশে ওই ছেলেটা কে?
– আরে আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম আয় তোকে পরিচয় করিয়ে দেই। তাসনিম বললো।

-ও হচ্ছে আরাফ
– কেমন আছেন ভাইয়া? আমি বললাম
আরাফ বললো- আলহামদুলিল্লাহ আপু
আরো কিছুক্ষণ কথা বলে আরাফ মুহুর্তে আমাদের কাছ থেকে চলে গেলো।

অনেক দিন পর দুই বান্ধবী এক জায়গায় হলে যায় হয় আরকি আবার আমি অনেক দিন পর এই অচেনা শহরে কোন এক কাছের মানুষ, আপন মানুষকে পেয়েছি,
ফার্মগেটে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে দুজনে মিলে নাস্তা করতে বসলাম
বান্ধবীকে পেয়ে আরাফকে এই কথা জিজ্ঞেস করতেই ভুলে গেছি মনে হওয়া মাত্রই
বললাম,
– তাসনিম তোর সাথের ছেলেটা কে রে?
– তোকে বলা হয় নি। ও র সাথে পরিচয় একটা অনুষ্ঠানে।

-আপনার নাম কি?
-তাসনিম আপনার?
– আরাফ

আরাফ কে আমার নাম্বার দিলাম হঠাৎ এক রাতে একাকী বসে আছি হাতের পাশে রাখা ফোন রিং রিং রিং আওয়াজ করতেই আমি ফোন রিসিভ করলাম অচেনা এক কন্ঠ তবুও মনে হয় কত চেনা মাত্র কয়দিনে আরাফ আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে। কেন জানি নিজের অজান্তেই আমার মনে আরাফ এসে উঁকি দেয়,কিন্তু তার কোন কারণ আমার জানা নেই, তবে কি আমি আরাফ কে ভালোবেসে ফেলেছি? আমি তা জানি এসব ভাবনার মধ্যে থাকতেই ফোনের ওপাশ থেকে বলে উঠলো,
– আমি আরাফ চিনতে পেরেছেন কয়দিন আগে বিয়েতে পরিচয় হয়েছিলো
-জি জি,
এরকম অনেক কথা হয় দুজনের চেনা জানা হয়, আস্তে আস্তে করে আরাফকে আমি অনুভব করতে থাকি,তারপর থেকে দুজন দুজনার হয়ে গেলাম আরাফ আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে আমিও আরাফ কে সমান ভাবে অনুভব করি ওর সাথে একবার কথা না হলে কেমন অশান্তি অশান্তি লাগে, কেমন একটা অনুভূতি হয় আমি তা জানি না। কারন আরাফের কথা ভাবলে আমার মনের
উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তখন আমি অন্য এক জগতে ডুবে যাই বললো তাসনিম।

– তাহলে এই হলো আপনাদের প্রেম কাহিনি বললাম আমি।
– হা হা হা। হাসলো তাসনিম। তুই কি যে বলিস।
তাড়াতাড়ি নাস্তা করে বেরিয়ে পরলাম। তাসনিমের জন্য ম্যাচ দেখতে হবে।
রেস্টুরেন্টে থেকে বেরিয়ে। রিক্সা ডাকলাম।
– মামা যাবেন? শ্যামলী?
– হ যামু ৮০ টেকা।

আমার কাছে মনে হয় ঢাকায় সব চেয়ে বড়লোক। রিক্সা চালক। কারন কাছাকাছি কোন জায়গায় যেতে হলেও তারা অনেক টাকা চেয়ে বসে। তাদের আবার কিছু বলাও যায় না। তবে শেষমেশ ৬০ টাকায় যেতে রাজী হলো।

আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা,হয়তো হঠাৎ করেই ঝুউম বৃষ্টি নামবে,তবে আজ বৃষ্টি হলে বাঁচার কোন উপায় নেই ছাতাও সাথে নেই আমার আবার বৃষ্টির পানি গায়ে পরলে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার অভ্যাস।

একি হঠাৎ বৃষ্টি নামলো। এখন তো নামাও যাবে না। কারণ প্রায় শ্যামলীর কাছাকাছি চলে এসেছি।

-মামা সিটের এক সাইডে দেখে পলি আছে। রিক্সা চালক বললেন।

পলিটা পাওয়ায় কিছুটা রক্ষা হলো।আমি আর তাসনিম জড়সড় হয়ে বসে আছি,এ যেনো বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার যুদ্ধ। কিন্তু তা আর কি উপায় আছে। ধীরে ধীরে বৃষ্টি বেড়েই চলছে। প্রায় ভেজা ভেজা অবস্থায়। শ্যামলী স্কয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। বৃষ্টি না কমলে আর এখান থেকে বের হওয়ার কোন উপায় নেই।

চলবে….

এই বিভাগের আরো নিউজ

জীবনের শেষ সময়ে চলে গেছি..!
বহুরূপী
কপালী (পর্ব-৪)
একবিংশ শতাব্দীর এক হতাশা
গল্প : প্রাণাত্যয় (১ম পর্ব)
মানবতার বাজার (পর্ব ১)
আবেগ
কপালী (পর্ব-৩)

আজকের সর্বশেষ সব খবর