রাজশাহীর দুর্গাপুরে সাগরি বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৪ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের শ্রীধরপুর আংরার বিল এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী আবদুল লতিফ মোল্লা (৪৫) ও তার চতুর্থ স্ত্রী আসমা বেগমকে (৩৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আবদুল লতিফ মোল্লা নাটোর জেলার আহম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার শ্রীধরপুর আংরার বিলে পুকুর পাহারাদারের কাজ করতেন আবদুল লতিফ। পুকুর পাড়ে ঝুপরি তুলে সেখানেই তৃতীয় স্ত্রী সাগরি বেগমকে নিয়ে বাস করতেন। পারিবারিক কলহের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার (২৩ জানুয়ারি) স্ত্রীকে চড় মারেন তিনি। এরপর অভিমানে বিষপান করেন সাগরি বেগম। টের পেয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সাগরি বেগমের ভাই আসলাম শেখ দাবি করেন, তার বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আবদুল লতিফ। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন চতুর্থ স্ত্রী আসমা বেগম।

তিনি বলেন, দুই মাস আগে সাগরি বেগমে না জানিয়ে আবদুল লতিফ উপজেলার পূর্ব নারায়ণপুরের বাসিন্দা আবদুল বারীর মেয়ে আসমা বেগমকে বিয়ে করেন। সপ্তাহখানেক আগে স্বামীর চতুর্থ বিয়ের খবর পান সাগরি বেগম। এ নিয়ে স্বামীর সাথে তার মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ও সতিনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিহতের স্বজনরা। মামলার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।