জে.ইতি হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) : ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা জুড়ে কৃষকের ঘরের চালে চালে শোভা পাচ্ছে চাল কুমড়া। আর কয়েক দিন পর এই কুমড়া দিয়ে বাড়ি বাড়ি তৈরি হবে সুস্বাদু কুমড়া বড়ি, মোরব্বা, হালুয়া।

সকালে ঘাসের ডগায় শিশির বেজা মুক্তকণা জানান দিচ্ছে আসছে শীত। কার্তিক মাসে সকাল-সন্ধ্যায় হালকা মৃদু ঠান্ডা বাতাস বইছে। আর শীতের আগমনে সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরী করতে হরিপুর উপজেলা জুড়ে গ্রামীণ নারীরা প্রস্থুতি নিচ্ছে।

জানা যায়, পুষ্টিকর সবজি হিসাবে আমাদের দেশে চাল কুমড়ার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ঘরের চালে এ সবজি ফালানো হয় বলে এটি চাল কুমড়া নামে পরিচিত। সবুজ কচি চাল কুমড়া তরকারি হিসাবে খাওয়া হয়। আর পাকা চুনের মত সাদা চাল কুমড়া দিয়ে বড়ি, মোরব্বা ও হালুয়া তৈরী করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিপুর উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির চাল বা মাচার উপর পাকা চুনের মত সাদা চাল কুমড়া ঝুলছে। এসব চাল কুমড়া দিয়েই তৈরী হবে কুমড়া বড়ি। সারা বছরই কমবেশী কুমড়া বড়ি তৈরী হয়। তবে শীত মৌসুমে এর চহিদা বেশী থাকে। এ মৌসুমে কুমড়া বড়ি তৈরী করে বাড়তি আয় করতে পারেন গ্রামীণ নারীরা।

কুমড়া বড়ি তৈরীর প্রধান উপকরণ চাল কুমড়া ও মাসকালাই ডাল। এসব কুমড়া বড়ি তৈরী করে অনেকে বাজারে বিক্রি করেন। তাই এই সময়টাতে কুমড়া বড়ি বাজারেও কিনতে পাওয়া যায়।

ডাঙ্গীপাড়া বটতলা গ্রামের ফাতেমা, শানজিদা, আঞ্জমা, ডেউটি গ্রামের জলেখা, কুলসুম, শিশুডাঙ্গী গ্রামের রানীসহ আরো কয়েকজন গৃহবধু জানান, আর একটু শীত পড়লেই চল কুমড়া দিয়ে বড়ি বানাবেন। নিজেরা সারা বছর খাওয়ার পাশাপাশি আত্মিয়-স্বজনদের বাড়িতে পাঠানো হয়। কিছু বড়ি বিক্রিও করেন তারা। এক কেজি কুমড়া বড়ি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি হয়।

চাল কুমড়ার গুণাগুণ ও পুষ্টি নিয়ে কথা হয় হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ডা. মো. আব্দুস সামাদ সাথে। তিনি বলেন, চাল কুমড়ায় বিভিন্ন
ধরনের ভিটামিন থাকে যেমন- আমিষ, শর্করা, চর্বি ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। চাল কুমড়ার বড়ি ও মোরব্বা ফুসফুসের জন্য উপকারী এবং এর বীজ কৃমি নাশ করে থাকে। চাল কুমড়ার রসের সাথে চিনি মিশিয়ে খেলে অর্জীন রোগ ভাল হয়।