হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভা নির্বাচনে গতবার বিএনপির নাজিম উদ্দিন শামছুর কাছে ১৪ ভোটে হেরেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল। এবার বিএনপির সেই প্রার্থীকেই বিপুল ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হলেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী শামছুর চেয়ে ৩ হাজার ৩৮৮ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রুবেল।

২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনের ফলাফল এবং এ বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে প্রতিটি কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর ভোট কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। অন্যদিকে প্রতিটি কেন্দ্রেই ১০০ থেকে ৩০০ ভোটেরও বেশি বেড়েছে আওয়ামী লীগের।

মমিনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবার নৌকার বাক্সে ভোট পড়েছে ৫৬৬টি এবং ধানের শীষ প্রতিকে পড়েছে ৪৩৫ ভোট। এই কেন্দ্রে ২০১৫ সালের নির্বাচনে নৌকায় ভোট পড়েছিল ৩০৬টি এবং ধানে পড়েছিল ৫৭৮ ভোট। সেই হিসেবে এই কেন্দ্রে ৫ বছরে নৌকার ভোট বেড়েছে ২৬০টি আর ধানের কমেছে ১৪৩ ভোট।

বাগবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবছর নৌকায় ভোট পড়েছে ৫৩২টি এবং ধানে ৩০৬টি। এই কেন্দ্রে ২০১৫ সালে ধানে ভোট পড়েছিল ৪৬৩ টি আর নৌকা ৩৩৭ ভোট। সেই হিসাবে এবার এই কেন্দ্রে নৌকার ভোট বেড়েছে ১৯৫টি আর ধানের কমেছে ১৫৭টি ভোট।

হাজী ইয়াসীন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেটি বিএনপি মেয়র প্রার্থী নাজিউদ্দিন শামছুর নিজ বাড়ির। এখানে এবছর নৌকায় ভোট পড়েছে ৬৬২টি এবং ধানে পড়েছে ৭০২ ভোট। অর্থাৎ নিজের ভোট কেন্দ্রে শামছু নৌকার চেয়ে মাত্র ৪০ ভোট বেশি পেয়েছেন। কিন্তু ২০১৫ সালে এই কেন্দ্রটিতে ধানে ভোট পড়েছিল ৮২০টি আর নৌকায় ৪৪৫ ভোট। সেই হিসাবে ধানের শীষ প্রতিকে এখানে ৩৬৬টি ভোট বেশি পেয়েছিলেন শামছু। তবে ২০১৫ সালের হিসেবে এ কেন্দ্রে ধানের শীষের ভোট কমেছে ২৯৬টি। আর নৌকার ভোট বেড়েছে ১৫৮টি।

বড়াইল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এবার নৌকায় ভোট পড়েছে ৪৯০টি এবং ধানে ৪৩০ ভোট। এ কেন্দ্রে ২০১৫ সালে ধানে ভোট পড়েছিল ৪৯২টি আর নৌকায় ৩৪৩ ভোট। সেই হিসেবে এ কেন্দ্রে নৌকার ভোট বেড়েছে ৬০টি। আর ধানে কমেছে ৬২টি।

বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবার নৌকায় ভোট পড়েছে ৩৫৯টি এবং ধানে মাত্র ৮৪টি। ২০১৫ সালে এ কেন্দ্রে ধানে ভোট পড়েছিল ৮৫টি, আর নৌকায় ৩১৭ ভোট। সেই হিসেবে এবার নৌকায় ভোট বেড়েছে ৪২টি আর ধানে কমেছে ১ ভোট।

নয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকায় ভোট পড়েছে ৭০০টি এবং ধানে পড়েছে ২৫০টি। ২০১৫ সালে এ কেন্দ্রে ধানে ভোট পড়েছিল ৪৭৭ ভোট এবং নৌকায় ৪০৫টি। সেই হিসাবে এবার নৌকায় ভোট বেড়েছে ২৯৫টি আর ধানে কমেছে ২২৭টি ভোট।

শামসুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে এবার নৌকায় পড়েছে ২৮৯ ভোট এবং ধান ২২৮টি। ২০১৫ সালে এ কেন্দ্রে ধানে ভোট পড়েছিল ৩১১টি এবং নৌকায় ২২৬টি। সেই হিসেবে এবার এ কেন্দ্রে নৌকার ভোট বেড়েছে ৬৩টি আর ধানে কমেছে ৮৩ ভোট।

চুনারুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকায় ভোট পড়েছে ৭৩৩টি এবং ধানে ২৭৯ ভোট। এ কেন্দ্রে ২০১৫ সালে ধানের বক্সে পড়েছিল ৩১১টি এবং নৌকায় ২২৬ ভোট। সেই হিসেবে এবার নৌকায় ভোট বেড়েছে ৫০৭টি আর ধানের কমেছে ৩২ ভোট।

ডি.সি.পি হাই স্কুল কেন্দ্রে নৌকায় ভোট পড়েছে ৬৬৫টি এবং ধানে ২২২ ভোট। ২০১৫ সালে এ কেন্দ্র ধানে ভোট পড়েছিল ৪৯৬টি আর নৌকায় ২৭৮ ভোট। সেই হিসাবে এই কেন্দ্রে এবার নৌকায় ভোট বেড়েছে ৩৮৭টি আর ধানে কমেছে ২৭৪টি ভোট।

আমকান্দি মক্তব কেন্দ্রে নৌকায় ভোট পড়েছে ৭৭৩টি এবং ধানে ২১৪ ভোট। এ কেন্দ্রে ২০১৫ সালে ধান পেয়েছিল ৩৮০ ভোট এবং নৌকা ৫৫৯টি। সেই হিসেবে এবার নৌকায় ভোট বেড়েছে ২১৪টি আর ধানের কমেছে ১৬৬ ভোট।

ধলাইপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ১ হাজার ৬৪ ভোট এবং ধানে ২৬৫টি। ২০১৫ সালে এ কেন্দ্রে ধান পেয়েছিল ৩১৪টি এবং নৌকায় পড়েছিল ৯১৬ ভোট। সেই হিসেবে এবার নৌকায় ভোট বেড়েছে ১৪৯টি এবং ধানের কমেছে ৪৯টি ভোট।

বিএনপির ভোট গেল কই

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছে, বিএনপি প্রার্থী দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করায় তার অনেক ভুল ত্রুটি রয়েছে। যে কারণে অধিকাংশ জনগণই এবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নৌকায় ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের যোগদান করেছে। তাদের পরিবারের সম্পূর্ণ ভোটও এবার নৌকার বাক্সে পড়েছে। যে কারণে প্রতিটি কেন্দ্রেই বেড়েছে নৌকার ভোট আর কমেছে ধানের।