দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চায়ের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মা-মেয়েকে অজ্ঞান করে ভাতিজিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোিরর মা বাদি হয়ে চুনারুঘাট থানায় চাচার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে গত সোমবার (২০ জানুয়ারি) উপজেলার গাজিপুর ইউনিয়নের বাসুল্লা গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।

সূত্র জানা যায়, চুনারুঘাটের বাসুল্লা গ্রামের মৃত গাবরু মিয়ার ছেলে আব্দুল হান্নান তার আপন ফুপাতো ভাইর ঘরে ঘটনার রাতে চা খেতে যায়। এ সময় সে নিজেই রান্নাঘরে গিয়ে চা তৈরি করতে সহযোগিতা করে। এক পর্যায়ে সে চার সাথে অজ্ঞান করার ওষুধ মিশিয়ে দেয়। চা খেয়ে সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়লে হান্নান ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া তার ভাতিজিকে (১৫) অজ্ঞান অবস্থায় ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

সকালে তাদের ঘুম থেকে উঠতে দেড়ি হলে পাশের ঘরে থাকা ওই কিশোরীর ভাই তাদের ডাকতে আসেন। কিন্তু তাদের ঘুম না ভাঙায় সে চিৎকার শুরু করে। পরে এলাকাবাসী এসে ওই কিশোরী ও তার মাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার বিষয়টি শালিস বৈঠকের মাধ্যমে শেষ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক দফা দর কষাকষি করেও সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ৫ দিন পর শনিবার রাতে চুনারুঘাট থানায় ধর্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযোগের সাথে সাথে দ্রুত মামলা নিয়েছি এবং ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শালিস বৈঠকে অবহেলা ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’