নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে মেয়র পদে দ্বিতীয় বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরী। ‘দিনরাতনিউজ’র সাথে কথা হয় তার। একান্ত স্বাক্ষাতকার নিয়েছেন ‘দিনরাতনিউজ’র টিম।

দিনরাতনিউজ- কেমন আছেন?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- আলহামদুলিল্লাহ্, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

দিনরাতনিউজ- ভালো আছি। আপনে দ্বিতীয় বারের মতো নবীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। আমরা সকল প্রার্থীই নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যেতে যাচ্ছি। তবে গত বৃহস্পতিবার আলোচিত আইনজীবি ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন সাহেব নবীগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় এসে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত করে তুলার চেষ্টা করছেন। তিনি আমার উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তবে আমি আশা করি নবীগঞ্জ পৌরসভায় সরকার একটি সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে।

দিনরাতনিউজ- বিগত সময়ের প্রতিশ্রুতিগুলো কি বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- আমি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এই পৌরসভার সাথে জড়িত রয়েছি। কাউন্সিলর থেকে প্যানেল মেয়র এবং ২০১৫ সালে মেয়র পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছি। জনগণকে যতবার যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমি তার চেয়ে বেশি বাস্তবায়ন ঘটিয়েছি। যে কারণে জনগণ বারবার ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে।

দিনরাতনিউজ- বিগত ৫ বছরে আপনার মেগা প্রকল্পগুলো কি কি ছিল?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- আপনারা জানেন নবীগঞ্জ পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এছাড়া যেহেতু এটি প্রবাসি অধ্যুষিত এলাকা, তাই এখানের মানুষের জীবন মান একটু উন্নত। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করতে হয়েছে। পৌরসভাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সুপেয় পনির। আমি পানির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি। বিগত ১৭ বছর পৌরসভা থেকে ডিক্লেয়ার করা হয়েছি যে নবীগঞ্জে পানি নেই। কিন্তু আমি অনুসন্ধান করে পানি ব্যবস্থা করেছি এবং জনস্বাস্থ অধিধপ্তর থেকে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পানির টিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আমি আশাকরি ২১ সালের মধ্যেই নবীগঞ্জ পৌর বাসি পানির সুবিধা পাবে। নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোন নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না সেখানে আমি নবীগঞ্জ পৌর এলাকার জয়নগর গ্রামে ১ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেছি। নবীগঞ্জ পৌর সভায় কোন পৌর কবরস্থান ছিল না সেটা আমি করতে সক্ষম হয়েছি। পৌরসভায় একটি আধুনিক শহীদ মিনার নির্মাণ করেছি। নতুনবাজার মোড়ে একটি টাওয়ার নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। মশক নিধন, হজ্ব প্রশিক্ষণের ব্যস্তা করেছি প্রতি বছর।

দিনরাতনিউজ- বিরোধী দলের মেয়র হওয়ায় উন্নয়নে কি কোন ব্যঘাত ঘটেছে?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- আমরা যদি গত ১৭ বছরের চিন্তা করি তাহলেই এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। ১৭ বছরে কি কাজ হয়েছে এবং ৫ বছরে কি কাজ হয়েছে সেটি বিবেচনা করবে জনগণ। আমিও শুনি অনেকেই বলেন, বিরোধি দলে থাকলে কাজ করতে পারেন না। আমি এটা মানতে পারি না। কারণ আমি মনে করি কাজ কার ইচ্চা থাকলে কাজ করা যায়। কাজ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে, কাজ নিয়ে শ্রম দিতে হবে এবং নিষ্টার সাথে কাজ করতে হবে। তাহলেই কাজ করা সম্ভব।

দিনরাতনিউজ- ৫ বছরে আপনে কতটুকু স্বচ্চ থাকতে পেরেছেন?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- আমি গত ৫ বছরে পৌরসভা থেকে কোন সম্মানি বা টিএডিএ নেইনি। নবীগঞ্জ পৌসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেছি। কিন্তু কোন কনটাক্টার বলতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে ১ কাপ চা খেয়েছি। এই স্বচ্চতাটা আমাকে অত্যন্ত আনন্দ দেয়।

দিনরাতনিউজের সম্পাদক কাজল সরকার ও প্রকাশক আমীর হামজা


দিনরাতনিউজ- করোনাকালিন সময় আপনার ভুমিকা কেমন ছিল?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- আমি করোনাকে উপেক্ষা করে নিয়মিত অফিস খোলা রেখে মানুষকে কাঙ্খিত সেবা দিতে সক্ষম হয়েছি। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি নিজের অর্থায়নেরও অসহায় মানুষদের বাড়িতে খাবারসহ বিভিন্ন উপকরণ পৌঁছে দিয়েছি। আপনারা জানেন যে, মানুষের সেবা করতে গিয়ে আমি নিজেও একবার করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম।

দিনরাতনিউজ- নির্বাচনে জয়ী হলে আগামীতে আপনার মেগা প্রকল্পগুলো কি হবে?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- আমি যদি আবারও নির্বাচিত হই থাহলে আমার প্রথম কাজ হবে পৌরসভা ভবন নির্মাণ এবং নবীগঞ্জকে যানজট মুক্ত করা। শহরের মধ্যে যে বড়বড় রাস্তা রয়েছে সেগুলো ‘ওয়ানওয়ে’ করা। বিশেষ করে নবীগঞ্জ নতুন বাজার মোড় থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ‘ওয়ানওয়ে’ করে ফেললেই বাজারের যানজট নিরষণ হবে। এছাড়া শহরকে বর্ধতকরণ যেমন, শহরের কাচা বাজার এবং মাছ বাজার এখন এক স্থানে বসে। আমি বেশ কয়েকটি বাজার স্থাপন করব। এর মধ্যে তিমিরপুর, রাজাবাদ, ছালামতপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি করে কাচা বাজার করবো। আসলে এই সমস্যাগুলো ছাড়া নবীগঞ্জে আর কোন সমস্যা দৃশ্যমান নেই।

দিনরাতনিউজ- বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে কি কোন প্রতিবন্ধকতার সমূখিন হচ্ছেন?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- না, আমি এরকম কিছু লক্ষ করছি না। আমি মনে করি নবীগঞ্জে নির্বাচন একটি অবাধ, সুষ্ট ও শান্তিপুর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী যারা রয়েছেন আমরা ৩ জনই নবীগঞ্জের মানুষ। আমাদেরকে সবাই চিনেন, জানেন। কাজেই যাকে ভোটারদের ভালো লাগে তাকেই ভোট দিবেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। আমরা সকল প্রার্থীই নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে গত বৃহস্পতিবার আলোচিত আইনজীবি ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন সাহেব নবীগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় এসে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত করে তুলার চেষ্টা করছেন। তিনি আমার উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তবে আমি আশা করি নবীগঞ্জ পৌরসভায় সরকার একটি সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে।

দিনরাতনিউজ- জয়ের ব্যাপারে আপনে কতটুকু আশাবাদি?

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- ইনশাল্লাহ্, নবীগঞ্জ পৌরবাসী আমার প্রাণ। আমি পৌরসভার যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছি আশা করি জনগণ কাজের মূল্যায়ন করবে। যে কারণে সুষ্ট নির্বাচন হলে আমার জয় সুনিশ্চিত।

দিনরাতনিউজ- আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।

ছাবির আহমেদ চৌধুরী- ‘দিনরাতনিউজ’ এবং আপনার জন্যও শুভ কামনা।