নবীগঞ্জের বহুল আলোচিত প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারকৃত আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হাসান আলী ওরফে উস্তার মিয়া ও তার ভাতিজা শাহিনের হবিগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে জামিন হয়নি। গত বুধবার

হবিগঞ্জ জেলা দায়রা জজ ভার্চুয়াল আদালতে সঠিকভাবে কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় আসামী পক্ষের আইনজীবী সময় চাইলেন লিখিতভাবে। আদালত সময় মঞ্জুর করলে আবারও জামিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নবীগঞ্জের ইউপি মেম্বার উস্তার দেড়মাস যাবত কারাবাস করলেও আত্মসাৎয়ের ৭ লাখ টাকা এখনোও ফেরত না দেওয়ায় এলাকায় লোকমূখে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় স্থানীয় আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমম্বয়ে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ৭লাখ ফেরত দেয়ার রায় হয়েছিল। কিন্তু ইউপি মেম্বার রায় কার্যকর না করায় সামাজিক সালিশ বৈঠক ভন্ডুল হওয়ার কারণেই বিযয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় গড়িয়েছে এবং তা অবশ্যই দুঃখজনক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারস্থ বকুল মিষ্টি ঘরের সত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী রোমন মিয়ার নিকট থেকে জায়গা বিক্রির কথা বলে উল্লেখিত আসামীরা ৭ লক্ষ টাকা নেয়। কিন্ত জায়গা বুঝিয়ে না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। বিগত ২০১৪ সালে টাকা নিলেও ৭ বছর ধরে টাকাও ফেরত না দেয়ায় এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী রোমন ও তার পরিবারকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। অবশেষে গত ৮ মার্চ রোমন মিয়া বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আলোকে গত ১৬ মার্চ হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল আউশকান্দি বাজারে অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্য উস্তার ও তার ভাতিজা শাহিনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। উক্ত প্রতারণা মামলায় অপর আসামী গ্রেফতারকৃত ইউপি সদস্য উস্তার মিয়ার ভাই প্রতারক মোশাহিদ মিয়া দীর্ঘদিন যাবত পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ-শেরপুর রোডস্থ ডেবনার ব্রীজ সংলগ্ন সরকারের খাস জমি দখল করে দোকান ভিটা নির্মাণ করার অভিযোগ রয়েছে। ভূমি দখল মুক্ত করতে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।