টসে জিতে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ব্যাটিংয়ের। মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস এনে দিয়েছিলেন ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটিও। চার রান আগেই শেষ হতে পারতো, যদি না তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ না ফেলতেন।

তবে তাসকিন নিকোলসকে ফেরান এক বল পরেই। পরের ওভারে রুবেল হোসেনের শিকার হয়ে ফিরে যান গাপটিল। রুবেলের পরের ওভারে রস টেইলরের ক্যাচ ফেলে দেন মুস্তাফিজুর রহমান, কিন্তু এক বল পরেই তিনিও ফিরে যান মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে।

সব মিলিয়ে যতক্ষণে ১১ ওভার শেষ, ৫৭ রান তুলতে নিউজিল্যান্ড হারিয়ে ফেলেছে তিন উইকেট। সেখান থেকে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল, দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া স্বাগতিকদের।

অথচ বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ৩১৯! ডেভন কনওয়ে ও ড্যারিল মিচেল দুজনই তুলে নেন নিজেদের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, তাতে করেই এই বিরাট সংগ্রহ ব্ল্যাকক্যাপসদের।

আর সেই রান পাহাড়ে চাপা পড়েই হারলো বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ৭৬ করলেন বটে, কিন্তু তাতে জয়ের তাড়না খুঁজে পাওয়া গেল না। গেল না পুরো বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়েই।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল মাত্র ১৫৪ রানে। তাতে ভাগ্যে জুটল ১৬৪ রানের হার, যা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে হার।

এই হার দিয়ে নিউজিল্যান্ডে তাদের বিপক্ষে খেলা ১৬ ওয়ানডের সবকটিতেই হারল টাইগাররা।

৩১৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকছিল বাংলাদেশ। রান তাড়ার তৃতীয় ওভারেই বিদায় নেন তামিম। ম্যাট হেনরির বলে উইকেটের পেছনে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম ল্যাথামকে ক্যাচ দিয়ে নয় বলে এক রান করে ফেরেন তিনি।

পরের ওভারেই বিদায় নেন তিন নম্বরে নামা সৌম্যও। হেনরির শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ট্রেন্ট বোল্টকে সহজ ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি।

হেনরির শিকার হয়েই ফেরেন লিটন। তবে সেটি যতটা হেনরির উইকেট, তার চেয়ে বেশি বোল্টের। পুলটা ব্যাটে-বলে হয়নি লিটনের, ক্যাচ উঠে গিয়েছিল থার্ড ম্যান এলাকায়। সীমানা থেকে দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে ক্যাচ ধরেন এই বাঁহাতি পেইসার, লিটনকে তাতে ফিরতে হয় ২১ রানে।

এরপর বাকি সময়টায় স্রেফ হারের অপেক্ষা। মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন মিলে ১০ ওভারে ২২ রানের জুটি গড়েন। আউট হওয়ার আগে মিঠুন করেন ৩৯ বলে ৬, মুশফিক ৪৪ বলে ২১।

এক প্রান্ত মাহমুদুল্লাহ ধরে রাখলেও, জয়ের আশা যে ত্যাগ করেছে তারা, তা ছিল স্পষ্ট। নিউজিল্যান্ডের নায়ক বনেছেন জিমি নিশাম, ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। সঙ্গে হেনরির চার উইকেট।

শেষ পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহর ব্যাটে তিন অঙ্কের ঘরে গিয়ে দেড়শ পেরোয় বাংলাদেশ। ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি নবম উইকেটে, মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে রুবেল হোসেনের।

নিশাম এক ওভারেই রুবেল-মুস্তাফিজকে ফিরিয়ে দিলে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ শেষ হয় ১৫৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে।

ম্যাচ ও সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন কনওয়ে, যার ব্যাটের ওপর ভর করেই এই ম্যাচে বড় সংগ্রহ গড়ে নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচের শুরুতেই অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন উইকেট হারানোর পর কনওয়ে প্রথমে অধিনায়ক ল্যাথামের সঙ্গে গড়েন ৬৩ রানের জুটি। ম্যাচে সৌম্য সরকারের করা প্রথম বলেই পয়েন্টে মেহেদি হাসান মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে ল্যাথাম ফেরার পর শুরু হয় কনওয়ে-মিচেল ম্যারাথন।

দুজনে মিলে গড়েন ১৫৯ রানের বিরাট জুটি, যা বেসিন রিজার্ভ স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ জুটি।

নিজের শতক তুলে নিতে কনওয়ে খরচ করেন ৯৫ বল। এরপর যখন মুস্তাফিজের বলে আউট হয়ে ফিরছেন, ততক্ষণে নামের পাশে ১১০ বলে ১২৬ রানের ঝলমলে ইনিংসে।

সঙ্গে সেঞ্চুরি তুলে নেন ড্যারেল মিচেলও। ইনিংসের শেষ ওভারে মুস্তাফিজ দেন ২১, তার মধ্যে ১৭ রান তুলে নিয়ে ইনিংসের শেষ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন মিচেল।

তাতে করে শেষ ওভারে মুস্তাফিজ রান ২১, নিজের দশ ওভারে এক উইকেট তুলে নিয়ে রান দিয়েছেন ৮৭। রুবেল হোসেন তিন উইকেট পেয়েছেন, তবে রান দিয়েছেন ৭০। বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ, নিজের দশ ওভারে ৫২ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন এক উইকেট। অন্য উইকেটটি সৌম্য সরকারের।