ভ্যাকসিন আসার আগে মানুষের আগ্রহ ছিল। আসার পর সেই আগ্রহে যেন ভাটা পড়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে এক ধরনের অনাস্থা দৃশ্যমান। চলছে বিতর্ক। শুধু বাংলাদেশেই নয়, কমবেশি আস্থাহীনতা ও বিতর্ক চলছে প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশে। ভ্যাকসিন নিয়ে অনাস্থা কেন? মূল কারণ কী?

হবিগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার আগ্রহ দেখা গেলেও খুব একটা আগ্রহ দেখা যায়নি সচেতন মহলের মধ্যে। তাদের দাবি, দেশে আসা টিকাগুলো ভালোভাবে পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে মানুষের মধ্যে প্রয়োগ করার। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কেউই কিছু জানেন না।

হবিগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেয় ‌দিনরাতনিউজ’

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে পুরাতন কাপড় বিক্রেতা জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘সরকার টিকা দিলে আমি টিকা নিমু। কারণ টিকা নিলে আর করোনাভাইরাস হইত না।’

তবে করোনার টিকা পেতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের রিকশা চালক খালেদ মিয়া বলেন, সরকার টিকা দিলে আমরা টিকা নিমু। করোনাভাইরাস যাতে না হয় এরলাইগ্গাই আমি টিকা নিমু। সাথে আমার পরিবারের সবাইরে টিকা নেওয়ামু।’

তিনিও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান।

সিলেট এমসি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সমিরণ দাস বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় আমার টিকা নেয়ার কোন আগ্রহ নেই। কারণ বিভিন্ন দেশে এই টিকা নেয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রির কথা শুনা যাচ্ছে। তাই আমি চাইব, সরকার যেন টিকাগুলোকে ভালোভাবে যাচাই-বাচাই করে যেন মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে।’

নিজন্ধন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শুনেছি এ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। তবে সেটা কিভাবে সে বিষয়ে আমার ধারণা নেই।’
মাধবপুরের ব্যবসায়ি এরশাদল আলী বলেন, ‘সরকারের প্রতি আমার আস্তা আছে। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে টিকা নিতে ভয় পাচ্ছি। এছাড়া কোথায় কিভাবে টিকা পাওয়া যাবে সেটিও আমার জানা নেই।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘টিকা নেয়া নিয়ে আমার দুটানা রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ দেখছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই টিকা নিয়ে শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে নিবন্ধ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’