রিটার্নিং অফিসারদের প্রতিবেদন এবং টেলিভিশন দেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেছেন, চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভার সবগুলোতে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এসে এ দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসাররা প্রতি ঘণ্টায় যে রিপোর্ট দিয়েছেন তার ওপর ভিত্তি করে এবং টেলিভিশন দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে ভোট ভালো হয়েছে।’

ইসি সচিব জানান, নরসিংদীতে চারটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট বন্ধ করে দিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর একটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ভোট বন্ধ করা হয়েছে দুটি কেন্দ্রে।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মোট সাতটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। বাকি ৫০৩টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী পর্যায়ের ভোটকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি পৌরসভায় সহিংসতা হয়েছে। চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে এক জনের প্রাণ যায়।

এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘পটিয়াতে ভোটকেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে একজন মারা গেছে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য দুঃখজনক। প্রার্থীদের মধ্যে যে মারামারিটা হয়েছে, তা হয়েছে ভোটকেন্দ্রের বাইরে। এটি আমাদের ভোট গ্রহণে কোনো প্রভাব ফেলেনি। সেখানে ভোট গ্রহণ হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে।’

এ ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, হঠাৎ করেই এটা হয়ে গেছে। একজন মারা গেছেন। যারা ভোট দেয়ার, তারা ভোটকেন্দ্রে যাবে। যে জায়গায় মারামারি হয়েছে সেখানে যাবে না।

এই সহিংসতার দায় নির্বাচন কমিশন নেবে না জানিয়ে সচিব বলেন, ‘যে দুই প্রার্থী মারামারি করেছেন এর দায় তাদের। কারণ তারা নিজেরা মারামারি করেছেন। খুন হয়েছেন।

‘ভোটার যারা কেন্দ্রে এসেছেন, ল এনফোর্সিং এজেন্সি যারা ছিলেন, আমাদের প্রিসাইডিং অফিসার যারা ছিলেন, প্রত্যেকে আমাদের রিপোর্ট দিয়েছেন যে ভোট দেয়ার মতো পরিবেশ ছিল। সুষ্ঠু ছিল। রিটার্নিং অফিসার যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।’

পটিয়া ছাড়াও নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক জন গুলিবিদ্ধসহ তিন জন আহত হন।
চট্টগ্রামের পটিয়ার গবিন্দরখীলে নির্বাচনি সহিংসতার সময় চায়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আগুন নেভানোর চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার একটি কেন্দ্রে ভোট দেয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন পাঁচ জন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গিয়াসউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় এক পুলিশ সদস্যের মাথা ফেটে যায়।

ভালোবাসার দিনে সহিংসতাহীন ভোট আয়োজন করতে ইসির লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে জানালেন হুমায়ুন কবীর। বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি প্রাণও যেন ঝরে না পড়ে। কিন্তু প্রার্থীরা এত বেশি ইমোশনাল হয়ে যায়…।’

চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভায় মোট মেয়র প্রার্থী ২২৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৯৯ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৬৯ জন প্রার্থী রয়েছেন।

মোট ভোটার ১৭ লাখ ৬২৪। এর মধ্যে পুরুষ ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৬ ও নারী ভোটার ৮ লাখ ৫১ হাজার ২২৭।

পঞ্চম ধাপে ৩১ পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। দেশের তিন শতাধিক পৌরসভার বাকিগুলোর ভোট হতে পারে আগামী ৭ এপ্রিল।