জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দিতে ঢাকায় পৌঁছালেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে।

সকাল ১০টায় তাকে বহনকারী শ্রীলঙ্কান এয়ার লাইন্সের বিমান হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরন করে।

সকাল ১০টায় তাকে বহনকারী শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুই দিনের ঢাকা সফরে আসলেন শ্রীলঙ্কার সরকারপ্রধান।

মাহিন্দা রাজা পাকসের সঙ্গে এসেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী, আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রতিমন্ত্রী, তাঁত ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী, গ্রামীণ গৃহায়ণ ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী শিল্প প্রতিমন্ত্রী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাসহ ২৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

শ্রীলঙ্কার সরকারপ্রধানকে ঢাকায় স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিমানবন্দরে রাজাপাকসেকে ২১টি গান স্যালুটসহ আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার সম্মাননা জানায় সামরিক বাহিনীর একটি চৌকস দল। এখান থেকে তিনি যাবেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাজাপাকসে।

এরপর তিনি শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আসবেন। ঢাকা সফরকালে এই হোটেলেই অবস্থান করবেন তিনি।

বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। ওই আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার।

ওই দিন সন্ধ্যায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের সম্মানে নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে যোগ দেবেন তিনি।

সফরের শেষ দিন শনিবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে, তার স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখবেন তিনি।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির নানা দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়েও দুই শীর্ষনেতার মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিকেলে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং ওই দিন সন্ধ্যায় কলম্বোর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বর্তমান সরকারের মেয়াদে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হয়।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে মোট ১০ দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এই ১০ দিনের মধ্যে ১৭, ২২ ও ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং ১৭, ১৯, ২২, ২৪ ও ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত থাকার কথা।

২২ মার্চ নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী, ২৪ মার্চ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং এবং ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও এ উদযাপন উপলক্ষে ভিডিও বক্তব্য পাঠাবেন।

দুই দিনের ঢাকা সফরে এসে ১৭ মার্চ উদ্বোধনী আয়োজনে যোগ দেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সোলিহ।