ডিজিটাল জালিয়াতি ও অবৈধ পন্থায় ভর্তির দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার কেন তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে রোববার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া সভায়, পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে সাত কলেজের পাঁচজন শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজসমূহে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১৫১ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগের মতোই (সুপারিশ অনুযায়ী)। কোথাও কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে আমরা তাদেরকে একাডেমিক পানিশমেন্ট দেই।’

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, ফজলুল হক মুসলিম হলের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাকসুদুর রহমান, কবি জসিম উদ্দিন হলের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিজন আহমেদ, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার তামান্না, কবি জসিম উদ্দিন হলের ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহ মেহেদী হাসান, স্যার এ এফ রহমান হলের ইতিহাস বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহাইমিনুল ইসলাম, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের দর্শন বিভাগের ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম, অমর একুশে হলের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহেদ আহমেদ৷

বহিষ্কৃতদের ভবিষ্যৎ কী জানতে চাইলে প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘তাদের আমরা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অযোগ্য ঘোষণা করেছি। তবে তারা অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে।’

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শৃঙ্খলা পরিষদের এক সভায় এসব সাজার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল।

সে সভায় পরীক্ষায় অসঙ্গতিপূর্ণ নম্বর প্রদানের কারণে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তিনজন শিক্ষককে শাস্তির সুপারিশ করেছিল শৃঙ্খলা পরিষদ। শাস্তি হিসেবে তাদের তিন বছর পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ থেকে অব্যহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়। তখন বলা হয়েছিলো এদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

শাস্তি পাওয়া তিন শিক্ষক হলেন অধ্যাপক ড. এএসএম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. গোলাম আজম ও সহকারী অধ্যাপক মাইনউদ্দীন মোল্লা।

তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ‘উনাদের বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় ডিবেট হয়েছে। এরপর উনাদের শাস্তি বহাল রাখা হয়েছে।’