আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গুলশান থানায় করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিন দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম রাজেশ চৌধুরী এ আদেশ দেন ।

আসামিপক্ষে আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘যার সম্মান নষ্ট করা হয়েছে, শুধু তিনিই মামলা করতে পারবেন। অন্য কেউ এই মামলা করতে পারবেন না।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এজাহার দেখলে ২৫, ২৯ ৩২ ধারায় যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে কোথাও কোনো উল্লেখ নেই, কখন কোথায় কীভাবে কার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তার কোনো উল্লেখ নেই।

‘আসামি একজন সিআইপি, এই মামলায় রিমান্ড কী দরকার? রিমান্ডের কোনো যুক্তি নেই।’

এ সময় বিচারক বলেন, মামলার ফরোয়ার্ডিংয়ে বলা হয়েছে, এই আসামি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মন্ত্রী, এমপি ও দেশের সম্মানিত নাগরিকদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে সরকারের ভাবমূর্তি ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।

ফরোয়ার্ডিংয়ে আরও বলা হয়েছে, হেলেনা জাহাঙ্গীর সরকারবিরোধী কার্যকলাপ ও পরিকল্পনায় যুক্ত। এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা মহল জড়িত আছে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এই গোষ্ঠী কারা তা জানতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

এ সময় হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি সরকারি লোক, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২৫টি দেশ সফর করেছি। আমি কেন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে যাব?’

এ সময় প্রমাণ হিসেবে একটি অডিও (মোবাইলের কলরেকর্ড) আদালতে উপস্থাপন করেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু। সেখানে শোনা যায় হেলেনা জাহাঙ্গীর বলছেন, ‘কোনো মন্ত্রীকে গোনার সময় নাই’।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‍্যাব।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেকবই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জাম ৪৫৬টি চিপস। পরবর্তী সমযে মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া এই ব্যবসায়ী সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগের এই নামে কোনো সংগঠন নেই। সে জন্য তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।