দিনরাত প্রতিবেদক : জেলার ২০ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল। প্রতিদিন শতশত রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু দালাল চক্রের খপ্পরে পরে বিভিন্নভাবে প্রতারিত হতে হয় তাদের। অতিরিক্ত টাকা ব্যায় করেও পান না সঠিক চিকিৎসা।

বারবার প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা, একাধিকবার দালালের তালিকা প্রকাশ এবং জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার বিষয়টি উত্থাপন করলেও দালালমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালকে। তাদের খপ্পরে পরে প্রতিদিনই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ সচেতনমহল।

দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলেও কার্যত কিছুই হয়নি। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দালাল নির্মূলে উপ-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। উপ-কমিটি গঠনের পর বিভিন্ন সময় ও সভায় দালালদের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এক পর্যায়ে গত বছরের ৪ ফেব্র“য়ারি দালাল নির্মূল উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডা. মিঠুন রায়সহ তিনজন স্বাক্ষরিত ২৮ দালালের একটি তালিকা প্রকাশ করে নির্মুল কমিটি।

অভিযোগ রয়েছে- হবিগঞ্জ শহরে অনুমোদনহীন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে দালালের সংখ্যাও। প্রতিটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল ২/৩ জন করে নিজস্ব দালাল নিয়োগ করে রেখেছে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জন্য। যে কোনভাবে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী নিয়ে দিলেই দালালরা পাচ্ছে মোটা অংঙ্কের কমিশন। গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা সহজ-সরল রোগী ও তাদের স্বজনদের উন্নত চিকিৎসার নামে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেইসব বেসরকারি হাসপাতালে। পাশাপাশি হাসপাতাল ফটকের ফার্মেসিগুলোও সদর হাসপাতালে দালাল নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। রোগীর স্বজনদের সাথে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করে থাকেন ফার্মেসীগুলোর নিয়োজিত দালালরা। অনেক সময় তারা রোগীর স্বজনদের হাত থেকে ওষুধের স্লীপ টেনে-হিছরে নিয়ে যান নিয়োজিত ফার্মেসীতে। সেখানে ইচ্ছেমতো দাম নেয়া হয় ওষুধের।

এসব ব্যাপারে স্বাস্থ্যবিভাগ ও প্রশাসন নিরব থাকাকেই দায়ি করছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি সদর হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক ও স্টাফদের যোগসাজসে দালালরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

এদিকে, শুধু সাধারণ মানুষই নন, বেপরোয়া দালালচক্র ও হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কারণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী পরিদর্শনে এসে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের পরিবেশ বজায় রাখতে, সঠিক চিকিৎসা দিতে ও দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু এরপরেও পাল্টেনি হাসপাতালের চিত্র। পূর্বের অবস্থাতেই থেকে যায় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দালাল দূর্ভোগ।

অপরদিকে, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। স্থানীয়রা বলছেন- থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে সদর হাসপাতাল। পাশাপাশি পুলিশের হাতেও রয়েছে দালালদের তালিকা। কিন্তু এরপরও তেমন কোন ভূমিকা রাখছে না সদর থানা পুলিশ। দীর্ঘ এক বছরে পুলিশ গ্রেফতার করেছে মাত্র ৩ দালালকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান- দালালরা অনেক সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ করে থাকেন। যার কারণে দালালদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। উল্টো, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে। তাদের প্রশ্রয় পেয়েই মূলত দালাল চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।