দাড়ি থাকার কারণে আড়ং কর্তৃপক্ষ এক যুবককে চাকরি দেয়নি- এমন অভিযোগ এনে সিলেটে আড়ংয়ের শাখার সামনে বিক্ষোভ করেছে শখানেক মানুষ। বিক্ষোভকারীদের প্রায় সকলের মুখেই দাঁড়ি ছিল। মাথায় ছিল টুপি।

‘সিলেটের সচেতন আলেম সমাজ’ এর ব্যানারে বুধবার দুপুরে নগরের জেলরোড এলাকার আড়ংয়ের শাখার সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। বিক্ষোভের পর আড়ংয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দেয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, দাড়ি থাকায় এক যুবককে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আড়ংয়ের শো রুমে চাকরি দেয়া হয়নি। গত শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন ইমরান হোসাইন লিমন নামের এক যুবক। ৮ মিনিটের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে লিমন বলেছেন, তেজগাঁওয়ে আড়ংয়ের শো রুমে তিনি সপ্তাহখানেক আগে সিভি জমা দেন। শুক্রবার তাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয় এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীরা সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেয়ে খুশি হন। কিন্তু হঠাৎ করে লিমনকে মাস্ক খুলতে বলা হয়। মাস্ক খোলার পর তার মুখে দাড়ি থাকায় চাকরি হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়।

লিমনের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে সিলেটে আড়ংয়ের শো রুমের সামনে এই বিক্ষোভ করা হয়। এতে শ’খানেক মানুষ অংশ নেন।

এই বিক্ষোভ আহ্বানকারীদের অন্যতম মাওলানা মামশাদ আহমদ বলেন, ‘ইসলামকে অবমাননা করে পৃথিবীতে কেউ টিকতে পারেনি। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহম্মদ (স.) এর সুন্নাত দাড়ি নিয়ে তামাশা করায় আড়ংও ধ্বংস হবে যাবে। তাই অবিলম্বে আড়ং কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এমন অবস্থান এবং মনোভাব থেকে সরে আসতে হবে। নতুবা দেশবাসীকে নিয়ে আড়ংয়ের সকল পণ্য বয়কটের ডাক দেয়া হবে।’

এই বিক্ষোভের পর আড়ং কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করেছে। বিবৃতিটি আড়ংয়ের সিলেট শাখা থেকে সাংবাদিকদের দেয়া হয়।

আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়- ‘সম্প্রতি আড়ং-এর একটি ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত একজন চাকরিপ্রার্থীর নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ব্যাপারটি সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি নিঃসন্দেহে আমাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী।’

‘আড়ং কর্তৃপক্ষ বয়স, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, অক্ষমতা বা জাতিগত উৎস নির্বিশষে সকলের জন্য মানবিক মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তির অধিকারগুলোকে সমুন্নত রাখে। আমাদের নিয়োগের সিদ্ধান্তে ধর্মীয় বিশ্বাস ও পালনকে কখনই বিবেচনা করা হয় না। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি কর্মী রয়েছে এবং সকল ধর্মের অনুসারীরা শ্ৰদ্ধার সাথে এবং প্রকাশ্যে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের ভবিষ্যতের ইন্টারভিউ বোর্ডগুলোর পরিচালনায় আমাদের মূল মুল্যবোধের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করব এবং ইন্টারভিউ বোর্ডে সংশ্লিষ্টদের শিষ্টাচারের বিষয়ে সংবেদনশীলতা আনতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এ ছাড়া সেই সকল চাকরিপ্রার্থী- যারা মনে করেন আমাদের কোনো একটি ইন্টারভিউ বোর্ডে যেকোনো বিষয়ে তারা যথাযথভাবে পরীক্ষিত বা মূল্যায়িত হননি তারা আমাদের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’