সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুই অভিনেত্রীকে ধর্ষণের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে গর্জে উঠলেন শিল্পীরা। নারী সাংসদ ও অভিনেত্রী নুসরত জাহান ঝাঁটা, বটি নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধের হুমকি দিলেন।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত ও সায়নী ঘোষ। সেখানে তারা গরুর মাংস রান্না নিয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা বলেছিলেন।

আর এতেই কিছু লোক চটে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলতে থাকে সায়নী ও দেবলীনাকে ধর্ষণের হুমকি। সংগীতশিল্পী অনিন্দ্য চ্যাটার্জিকেও খুনের হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ।

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা ধর্ষণের হুমকির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। সোমবার কলকাতার ধর্মতলায় টলিউডের পরিচালক, অভিনেতা, অভিনেত্রী থেকে শুরু করে সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্টজনেরা প্রতিবাদে নামেন।

‘এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার’, এই অরাজনৈতিক ব্যানারে শিল্পী শুভাপ্রসন্ন, কবি জয় গোস্বামী, পরিচালক গৌতম ঘোষ, অভিনেতা কৌশিক সেনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন এ সমাবেশে।

দেবলীনা ও সায়নীও বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ও অভিনেত্রী নুসরাত জাহানও। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের হুমকি আমিও পাই।’

একই সঙ্গে নুসরাতের পাল্টা হুমকি, ‘এ ধরনের হুমকিতে ভয় পাই না। বাংলার বাড়িতে বাড়িতে ঝাঁটা আছে, বটি আছে। কেউ আমাদের ধর্ষণের ভয় দেখালে তাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হবে।’

তার অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে। নুসরাত পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘সাহস থাকলে আমাদের ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে দেখাক।’

অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত প্রশ্ন তোলেন, ‘অপরাধের শাস্তি জেল, ফাঁসি হতে পারে। কোনো অপরাধের শাস্তি কি ধর্ষণ হতে পারে?’

অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ সম্প্রতি সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ‘জয়শ্রীরাম’ বলে বেইজ্জত করার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘রাম সকলের। আর সেই দেবতার নাম নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকেও হেনস্থা করা হলো। সায়নী ঘোষ তো কোন ছাড়!’

তবে বিজেপি অবশ্য এইসব অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ। বিজেপি নেত্রী ডা. অর্চনা মজুমদার বলেন, ‘প্রকাশ্যে গরুর মাংস রান্নার কথা বলে হিন্দুদের ভাবাবেগ ও ধর্মবিশ্বাসে ইচ্ছা করে আঘাত করা হয়েছে।’

ধর্ষণের হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন তো মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। তিনি নিজেও একজন নারী। তাই অভিযুক্তদের খুঁজে বার করুক সরকার। আসলে সবই নাটক হচ্ছে বিজেপিকে বদনাম করার লক্ষ্যে। মানুষ সব বোঝে।’