দিনরাত ন্যাশনাল ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে গত দুই বছরে বন ও পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি সম্পূর্ণ উজাড় হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জ্বালানি হিসেবে ছাই করে ফেলেছে ১ হাজার ৮ হাজার ৩৭ একর সংরক্ষিত বনভূমি। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৫৫৫ কোটি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পদচারণ, রাস্তা নির্মাণ ও অন্যান্যভাবে ধ্বংস করা হয়েছে আরো প্রায় ৫০০ বনভূমি। ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৮২৯ টাকার জীববৈচিত্র্য। ৫৯১ কোটি টাকার মূল্যবান বনজ দ্রব্য। সব মিলিয়ে ক্ষতি প্রায় ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম এসটিপি সম্মলনে কক্ষে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংসদীয় কমিটির পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন আহমদ এমপি, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও একই কমিটির সদস্য আলহাজ জাফর আলম, সদস্য রেজাউল করিম বাবলু এমপি, খোদেজা নাসরিন এমপি, আক্তার হোসেন এমপি, একই মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম, বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদ্বয় ও কমিটির সচিব ও সরকারের উপসচিব একেএমজি কিবরিয়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাসহ সাচিবিক দায়িত্ব পালনকারীরা।

স্থায়ী কমিটির এই সভায় মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থী আগমনের কারণে কক্সবাজারের বন ও পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, স্থানীয় জনগোষ্ঠী যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আবার কীভাবে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের বসতি এবং তাদের কারণে বনের যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার একটি চিত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর। সংসদীয় কমিটি গত ১৭ অক্টোবর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের চেয়ে আরো ভয়াবহ চিত্র অবলোকন করে। এ ভয়ানক বিষয়টিকে কমিটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা করেছে। বৈঠকে বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্রিক ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।