ডেন্টাল সার্জন এর পরামর্শ না নিয়ে টিটু লাল দাশ নামে এক রোগীর দাতের চিকিৎসা করতে গিয়ে বড় অপারেশন করেন নবীগঞ্জ ডেন্টাল কেয়ারের কথিত দন্ত চিকিৎসক চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান (৩৩)। এতে দুটি দাঁতসহ পুরো মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং টিটুর জীবন সংকটাপন্ন হয় । এমন ঘটনায় অভিযোগ দেয়ার পর তাৎক্ষণিক নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই কথিত দন্ত চিকিৎসককে ভোক্তা অধিকার আইনে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এ কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযুক্ত চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান (৩৩) উপজেলার পুরানগাঁও গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- গত (১৭ এপ্রিল) দাঁতের চিকিৎসা করাতে নবীগঞ্জ ডেন্টাল কেয়ারের কথিত দন্ত চিকিৎসক চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে যান উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের গুমগুমিয়া গ্রামের মৃত কালী চরণ দাশের ছেলে টিটু লাল দাশ। কোনো ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার না করে দাঁতের চিকিৎসা করেন তিনি। এতে টিটুর মাড়ির ডান দিকের তিনটি দাঁতের গোড়া কেটে জখম হয়। এতে টিটুর জীবন সংকটাপন্ন হয়।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কথিত চিকিৎসক মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন টিটু। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন এর নেতৃত্বে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন আল আসিফ আবেদীন ও নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশের সহযোগীতায় নবীগঞ্জ ডেন্টাল কেয়ারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় নবীগঞ্জ ডেন্টাল কেয়ারের কথিত দন্ত চিকিৎসক চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগের ঘটনার দায় স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ কর্মে না বলে অঙ্গীকার করেন। এ ঘটনায় চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমানকে (৩৩) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।