দিনরাত প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি আবারো তদন্ত করেছেন স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক।

সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলামের কার্যালয়ে দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তকালে তিনি উভয়পক্ষের এবং সাক্ষীদের বক্তব্য নেন।

উল্লেখ্য- ইনাতগঞ্জ এলাকার হাওররক্ষা বাঁধ সংস্কার কাজে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৮ লাখ টাকার অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ এনে গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঢাকার দুদক অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলার বানিউন গ্রামের মোঃ আকিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হাওর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামত, নদী/খাল পুণঃখননের স্কীম প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০১৭-এর অধিনে নবীগঞ্জ উপজেলায় ৭টি পিআইসি গঠন করা হয়। এর মধ্যে ৫নং পিআইসির প্রকল্প সভাপতি ইনাতগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ ৭০ মিটার বাঁধ নির্মাণে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬শ’ ৬৬ টাকা বরাদ্দ পান। কাজের শুরু থেকেই চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ বিন হাসান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩শ’ ১৯ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ করেন। প্রকল্পের নীতিমালা লঙ্গন করার পরও প্রকল্পটি বাতিল না করে উল্টো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ বিন হাসান বজলুর রশীদের অনিয়ম দূর্নীতিতে সহযোগিতা করেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ বিন হাসান মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তড়িঘড়ি করে ৭০ মিটারের পরিবর্তে ৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণে ২২শ’ ঘনমিটার মাটির পরিমাণ দেখিয়ে বজলুর রশীদকে বিল প্রদান করেন। এ প্রেক্ষিতে গত ২৩ ডিসেম্বর প্রথমবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ও হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ইতিপূর্বে সরেজমিনে ঘটনাস্থল এবং আজ নিজ কার্যালয়ে অনিময় ও দুর্নীতির বিষয়ট তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলে শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকার দুদক অফিসে প্রেরণ করা হবে।