প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারকৃত নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ’র মেম্বার হাসান আলী ওরফে উস্তার মিয়া ও তার ভাতিজা শাহিনের জামিন না মঞ্জুর করেছে আদালত। গত সোমবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল আদালত ৫ এ হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে। মামলায় অপর আসামী ইউপি মেম্বার উস্তার মিয়ার ভাই মোশাহিদ মিয়া এখনও পলাতক রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আউশকান্দি বাজারস্থ বকুল মিষ্টি ঘরের সত্তাধিকারী ব্যবসায়ী রুমন মিয়ার নিকট থেকে জায়গা বিক্রির কথা বলে আসামীরা ৭ লাখ টাকা নেয়। কিন্ত জায়গা বুঝিয়ে না দিয়ে নানা অজুহাতে টাল বাহানা করতে থাকে আসামীরা। ২০১৪ সালে টাকা নিলেও ৭ বছর ধরে জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এক পর্যায়ে উল্টো ব্যবসায়ী রুমন তার পরিবারকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এনিয়ে আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন ও আউশকান্দি বাজার এলাকার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার খালেদ আহমদ জজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে শালিষ বিচারের মাধ্যমে টাকা ফেরত কথা রায় হলেও আসামী পক্ষ কর্ণপাত না করেনি। পরে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ী রুমান মিয়া আইনের আশ্রয় নেন।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে গত ১৬ মার্চ আউশকান্দি বাজারে অভিযান চালিয়ে মেম্বার উস্তার ও তার ভাতিজা শাহিনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ শেরপুর রোডস্থ কুর্শী ডেবনার ব্রীজ সংলগ্ন এরাবরাক নদীর সরকারি খাস জমি দখল করে দোকান ভিটা নির্মাণে তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় তারা দখলদারিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিয়োজিত রয়েছে।
এছাড়াও ইউপি মেম্বার উস্তার মিয়া তার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হতে সংযোগ দিতে ব্যর্থ হলেও অধ্যাবধি টাকা ফেরত দেননি। এলাকাবাসী নানা অনিয়মের অভিযোগে ঊল্লেখিত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।