দিনরাত প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের লহরজপুর গ্রামে আলোচিত কামাল উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের মুল রহস্য উদঘাটন হয়েছে।

প্রতিপক্ষের লোকজনকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে শ্যালক কামাল উদ্দিনকে হত্যা করে তার দুলাভাই মাখন মিয়া।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গত ৮ জানুয়ারী আদালতে দেয়া আটক ফারুক মিয়ার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে প্রেসব্রিফিংয়ে বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী বলেন, ঘটনার ৩ দিন পর নিহত কামাল উদ্দিনের বোন প্রতিপক্ষের ২৭ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার পরপরই নিহতের ভগ্নিপতি মাখন, ফারুক, শরীফ, লেবুসহ তার স্বজনরা ঘা-ঢাকা দেয় এবং মামলার বিষয়ে কোন সহযোগিতা না করায় পুলিশের সন্দেহ হয়। গত ৭ জানুযারী সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার গুচ্ছগ্রাম থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফারুক মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে ফারুক জানায়, ৬ নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলার উজিরপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয় বজলু মিয়ার পুত্র ফজল মিয়া। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মাখন মিয়াসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ১০ নভেম্বর বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পরিবার। আসামী পক্ষের লোকজন আদালতে ফজল মিয়া হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। এ অবস্থায় বেকায়দায় পরে যায় মাখন মিয়াসহ অপরাপর আসামীরা। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পনা করে মাখন মিয়া। দলবল নিয়ে মজিদ মিয়ার বাড়িতে গোপন বৈঠকে হয় মাষ্টার প্ল্যান। বৈঠকে সহজ সরল প্রকৃতির ভগ্নিপতি মাখন মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা শ্যালক কামাল উদ্দিনকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর রাতে ভগ্নিপতি মাখন মিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী কামাল উদ্দিনকে লহরজপুর হাওরে পাঠানো হয়। সেখানে শাখাবরাক নদীর পাশে ধান ক্ষেতে কামাল উদ্দিনকে পিছন দিক থেকে ধরে ফেলে শরীফ। এ সময় লেবু মিয়া ফিকল দিয়ে কামালের বুকে আঘাত করে। এক পর্যায়ে মাখন, ফারুক, অনুসহ তাদের লোকজন কামালকে উপর্যপুরি আঘাত করে। তখন হামলাকারীরাই চিৎকার করে বলে যে, ‘প্রতিপক্ষের লোকজন কামাল উদ্দিনকে মেরে পালিয়ে যাচ্ছে’। পরে স্থানীয় লোকজন কামালকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ইতিমধ্যে এ মামলায় ফারুক মিয়া ছাড়াও শরীফ মিয়া ও মুমিন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা মাখন মিয়াকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।