যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারী নিয়োগ পেয়েছেন। তার নাম ফজিলাতুন নেসা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করে। ফজিলার একটি ছবি প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানায় এবং সবাইকে বিষয়টি উদযাপনেরও আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

ফেসবুক পোস্টটিতে লেখা হয়েছে, ‘অভিনন্দন এনওয়াইপিডি পিএসএ-৪ এর সার্জেন্ট নেসা, প্রথম বাংলাদেশি মহিলা সার্জেন্ট।’

প্রথম বাংলাদেশি নারী সার্জেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ফজিলাতুন নেসাকে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে অভিনন্দন জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টও। তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হ্যান্ডেলগুলোতে খবরটি প্রকাশ করা হয় গত ১২ মে।

পোস্ট দুটির মন্তব্যের ঘরে অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফজিলাকে।

বাংলাদেশ থেকে ২১ বছর বয়সে আমেরিকায় অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান ফজিলা। ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা ও চাকরি দুটোই সমানতালে সামলেছেন তিনি। চাকরিতে বীরত্ব দেখিয়ে মর্যাদাসম্পন্ন সেঞ্চুরিয়ান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক নারীকে ছাদ থেকে লাফ দেয়া থেকে রক্ষা করে আলোচনায় ওঠে আসেন ফজিলা। তাকে সহায়তা করেন অফিসার টোরেস।

২০১৭ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের নতুন সদস্য হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন হয় ১২০ জনের। এই ১২০ জনের ২৫ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি আমেরিকান। তাদের মধ্যে তিনজন নারী। তাদের প্রায় সবাই সিটি পুলিশের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সদস্য।

প্রতি বছরই নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা বাড়ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার মধ্য দিয়ে তারা এখন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্টসহ বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ পাওয়ার পর বাংলাদেশিরা এনওয়াইপিডির মূল বিভাগে অফিসার হওয়ার জন্যও তারা আবেদন করতে পারেন।

এখানে মূল বিভাগের অফিসার পদে এরই মধ্যে অন্তত দুইশতাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাজ করছেন। মোট সদস্য হাজারের বেশি।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান খন্দকার আবদুল্লাহ পুলিশের উচ্চপর্যায়ের নির্বাহী পদে যোগ দেন। বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও শক্তিশালী পুলিশ বাহিনী হিসেবে পরিচিত এনওয়াইপিডির ক্যাপ্টেন পদে যোগ দেন তিনি।

২০১৯ সালে আমেরিকায় পুলিশ সার্জেন্ট পদে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিয়োগ পান মহম্মদ আরমান কায়সার৷ আটলান্টিক সিটির পুলিশ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান তিনি।